
নয়া দিল্লি: দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর কি একজন কর্মী কার্যত স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে ধরে নিতে পারে কোনও ব্যাঙ্ক? অভিযোগ, মেডিক্যাল লিভ আগে থেকেই অনুমোদন করা হয়েছিল। চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রও জমা দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তারপরও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (SBI) ওই কর্মচারীকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছে বলে উল্লেখ করেছে। এই অভিযোগ নিয়েই মামলা হয়েছে পাটনা হাইকোর্টে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তাঁর চিকিৎসার কারণগুলো সঠিকভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। কেন ওই কর্মী অনুপস্থিত ছিলেন, তার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তাঁকে কোনও সুযোগও দেওয়া হয়নি। আদালত ব্যাঙ্কের নির্দেশ বাতিল করে নির্দেশ দিয়েছে যে, ওই ব্যক্তিকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করতে হবে। তবে যে কদিন ও কর্মী অনুপস্থিত ছিলেন, ওই কয়েকদিনের বেতন দেওয়া হবে না।
ওই কর্মী ১৯৮৯ সালে এসবিআই-এর চাকরিতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ও পরে ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি হয় তাঁর। ২০১৯ সালের জুন মাসে একটি শাখা থেকে তাঁকে মুজাফফরপুর জোনে বদলি করা হয়। সেখান থেকেই বিরোধের সূত্রপাত।
২০১৯ সালের ২৫ জুন মুজাফফরপুর জোনে রিপোর্ট করেন ওই কর্মী, ২৮ জুন পর্যন্ত সেখানে কাজ করেন। এরপর তিনি জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে চিকিৎসার জন্য ছুটির আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, তাঁকে ৪৫ দিনের জন্য পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ব্যাংক তাঁকে ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ছুটি অনুমোদন করেন।
পরবর্তীতে তিনি জানান যে তাঁর পায়ে প্রচণ্ড ব্যাথা শুরু হয় এবং তিনি আবারও চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১৭ অক্টোবর তাঁকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তিনি দাবি করেন যে চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা করার পর ডিসেম্বরে তিনি বেতিয়ায় গিয়ে রিপোর্ট করেছিলেন। এরপর স্টেট ব্যাঙ্ক ওই কর্মীর অনুপস্থিতিকে ‘অননুমোদিত’ বলে উল্লেখ করে। ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়, যে ছুটি মঞ্জুর করেছে, তার মঞ্জুর করার এক্তিয়ার ছিল না।
এসবিআই ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর একটি বার্তা দিয়ে ওই কর্মীর ছুটি প্রত্যাখ্যান করে। ৬ নভেম্বর একটি নোটিস জারি করে ৩০ দিনের মধ্যে তাঁকে কাজে যোগ দিতে বলে। নোটিসে বলা হয় যে কাজে যোগ না দিলে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন বলে ধরে নেওয়া হবে। ১৩ ডিসেম্বরের দ্বিতীয় নোটিসে ঘোষণা করা হয় যে তিনি ৭ ডিসেম্বর থেকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং তাঁকে তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।