
নয়া দিল্লি: তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের চিঠিতে শেষ সইটা করেছেন তিনিই। তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনে তাঁর নামটাই সবথেকে বেশি অবাকের। তিনি ছিলেন তৃণমূলের অন্যতম সিনিয়র সাংসদ। আপাতত তিনি NCPI-তে নাম লিখিয়েছেন। NDA-কে সমর্থন করবেন বলেও জানিয়েছেন। সবথেকে বড় ব্যাপার, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসাবেও শোনা যাচ্ছে তাঁর নাম। দিল্লি থেকে ফেরত আসার সময়ে সেই সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্যায় বললেন, “এখন ফিরে যাওয়ার পালা! বিধানসভাতেও একই ধরনের প্রস্তুতি চলছে।”
সংসদে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দশ গোল দিয়ে দিয়েছেন কাকলিরা, তখন বিধানসভায় ঋতব্রতরা কী ভাবছেন? ঋতব্রত সে উত্তরও দিয়েছেন। মঙ্গলবারই স্পষ্ট করেছেন, সাংসদরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার সঙ্গে বিধানসভার কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁরা যেভাবে আছেন, সেভাবেই থাকবেন।
ঋতব্রত বলেন, ‘আমরা গতকাল দেখেছি তৃণমূলের সাংসদরা NCPI-তে যোগ দিয়ছেন। তাঁরা এখন NDA-র শরিক দল। তাঁরা হয়তো সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আমাদের এই নিয়ে কোনও ধারণা নেই। সবটাই মিডিয়া মারফত দেখেছি।
কিন্তু ঋতব্রত যতই বলুন, সুদীপ কিন্তু হালকা আভাস দিয়েই রাখলেন। দিল্লি থেকে ফেরার সময়ে সাংবাদিকদের বলে ফেললেন, ‘ব্যাপারটা অনেক দূর এগিয়েছে। বিধানসভাতেও একই ধরনের প্রস্তুতি চলছে।’ বিধানসভায় পরিষদীয় দল গঠনের সময় থেকে তাঁদের কাছে তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কখনও জানিয়েছিলেন ৫৮, কখনও ৬২। সেক্ষেত্রে তাঁদের ‘মার্জার’ কিংবা অন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, সেটাও আভাস দিয়েছিলেন ঋতব্রত। কিন্তু দলের সিনিয়র একজন সাংসদ যখন বললেন, বিধানসভাতেও একই পরিস্থিতি, তাহলে বিষয়টি ইঙ্গিতবাহী।
তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী ইতিমধ্যেই NCPI তে যোগ দিয়েছেন। সে প্রসঙ্গে সুদীপ বলেন, “একটা পদক্ষেপ শেষ হয়েছে। এবার সকলের ফিরে যাওয়ার পালা। আবার দ্বিতীয় দফায় ডাক এলে কথা হবে। ২০ জুলাই লোকসভা খুলছে। লোকসভা খোলার আগে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে।” তবে এই গোটা বিষয়টিই যে কাকলি ও শতাব্দী তদারকি করছেন, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করে দেন তিনি।
বিক্ষুব্ধ সাংসদরা NCPI তে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা এখনও জোড়া ফুলের ওপর থেকে তাঁর অধিকার বোধ ছাড়ছেন না। সে বিষয়টাও স্পষ্ট সুদীপের কথায়। তিনি বলেন, “”উভয়পক্ষ কীভাবে বসবে, আরও কাছাকাছি আসবে কিনা, এই দলের পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকচিহ্ন, অর্থকরি, সম্পদ-সেগুলো নিয়ে কী পদক্ষেপ হবে, সেগুলো বিচার্য বিষয়। তবে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বলছে, এগুলো সবই আদালতে নিষ্পত্তি হবে। লোকসভার স্পিকারের যা কাজ, ব্লক তৈরি করে দেওয়া, পার্টি অফিস তৈরি করা, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করবেন।”