
নয়াদিল্লি ও কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেই কি ভারতীয় নাগরিকত্ব হারাতে হবে? বেশ কিছুদিন ধরেই এই প্রশ্ন উঠেছে। এবার একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মৌখিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়। পশ্চিমবঙ্গে SIR-এ নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এক্ষেত্রে কমিশনের এক্তিয়ারের রূপরেখাও বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলা করেন জনৈক প্রসেনজিৎ বোস। সেই মামলার শুনানিতে বিহার এসআইআর মামলার প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, “আমাদের রায় অত্যন্ত স্পষ্ট। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯, ১০, ১১ ও ১২-এর অধীনে অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে (নাগরিকত্ব) জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কোনও সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নেই।”
এদিন মামলার শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গের ১৯টি ট্রাইব্যুনালের শ্লথ গতিতে কাজ এবং একের পর এক বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তিনি জানান, মোট ৩৪ লক্ষ আবেদনের মধ্যে মাত্র ৩৮ হাজার শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। ৩৩.৫ লক্ষ আবেদনের এখনও শুনানি বাকি আছে। তারপরই তিনি বলেন, “যাদের আবেদন বিচারাধীন তারা সরকারি প্রকল্প, রেশন ব্যবস্থা, জাতিগত শংসাপত্র- সহ সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”
আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “বিহার এসআইআর সংক্রান্ত রায়ে আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। আমরা বলেছি, নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকার কারণে যদি জাতীয় নির্বাচন কমিশন কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়, তবে বিষয়টি নাগরিকত্ব আইনের অধীনে সঠিকভাবে যাচাই করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় (MHA) বা কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রকে পাঠানো ECI-এর সমান্তরাল দায়িত্ব। এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্যক্তির নাগরিকত্ব বহাল থাকবে।”
SIR-এ বিচারাধীন আবেদনকারীদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টকে পরিষ্কার নির্দেশিকা জারি করার আবেদন জানান আইনজীবী। এ বিষয়ে SOP (স্টার্ন্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) ঠিক করে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। পাসপোর্টের মতো ডকুমেন্টকে নাগরিকত্বের পরিচায়ক হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন করেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, আগামী ২৫ অগস্ট বাংলার এসআইআর মামলার মূল শুনানির সময় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।