Abhishek Banerjee: ‘একজন ব্যক্তির পূর্ণ অধিকার আছে’, অভিষেককে ‘গ্রিন সিগন্যাল’দিল সুপ্রিম কোর্ট

কোথায় কবে যাচ্ছেন, কবে ফিরছেন, ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য, বিদেশে কোথায় থাকবেন, কোথায় চিকিৎসা করাবেন সব তথ্য তদন্তকারী এজেন্সিকে জানাতে হবে। এই যাবতীয় তথ্য তদন্তকারী এজেন্সি গোপন রাখবে। ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ছাড়া আর কোনও অভিষেকের কাছে আর কোন পাসপোর্ট নেই বলে তাঁর আইনজীবীর তরফে জানানো হয়েছে।

Abhishek Banerjee: একজন ব্যক্তির পূর্ণ অধিকার আছে, অভিষেককে গ্রিন সিগন্যালদিল সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তিImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Aug 10, 2026 | 2:24 PM

নয়া দিল্লি: প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট। তারপর সুপ্রিম কোর্ট। ফের কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে আবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। অবশেষে স্বস্তি। অভিষেকের বিদেশ যাত্রায় এবার অনুমতি দিল সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ (Supreme Court)। কোথায় কবে যাচ্ছেন, কবে ফিরছেন, ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্য, বিদেশে কোথায় থাকবেন, কোথায় চিকিৎসা করাবেন সব তথ্য তদন্তকারী এজেন্সিকে জানাতে হবে। এই যাবতীয় তথ্য তদন্তকারী এজেন্সি গোপন রাখবে। ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ছাড়া আর কোনও অভিষেকের কাছে আর কোন পাসপোর্ট নেই বলে তাঁর আইনজীবীর তরফে জানানো হয়েছে।

শুনানির সময় এজলাসে কে কী বললেন?

সোমবার শুনানির সময় অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু অভিযোগ করেন, ষোলোটি মামলা রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তাই তাঁকে যদি বিদেশ যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে তিনি আর নাও ফিরতে পারেন। এর পাল্টা সওয়াল করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তিনি জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সাংসদ। তাঁর হাতে ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট এসেছে। তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর দুটি সন্তান ও স্ত্রী রয়েছে। ফলে তিনি বিদেশে গেলে আর ফিরবেন না, এমন বক্তব্যের কোনও যৌক্তিকতা নেই।

বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ কী?

সওয়াল-জবাবের পর্যবেক্ষণ করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “একজন ব্যক্তির পূর্ণ অধিকার আছে কোথায় চিকিৎসা করাবেন তা নির্ধারণ করার। একজন ব্যক্তির পূর্ণ অধিকার আছে বিদেশ যাত্রার।” এরপর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের নির্দেশ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন সপ্তাহের বিদেশ সফরে কোনও বাধা সৃষ্টি করা যাবে না।তাঁকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে যে ‘ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট’ ছাড়া তাঁর আর কোনও পাসপোর্ট নেই। তাঁর চিকিৎসা এবং বিদেশে যাত্রা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তদন্তকারী এজেন্সিকে দিতে হবে। আর সাংসদের দেওয়া সব তথ্য তদন্তকারী এজেন্সিকে গোপন রাখতে হবে।

অভিষেকের বিদেশ যাত্রা কেসের সম্পূর্ণ ব্যাকগ্রাউন্ড

মামলার সূত্রপাত

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, বিদেশ যাওয়ার আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এরপর গত ২০ জুলাই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেককে বলেছিলেন, “আপনার চোখের চিকিৎসা কলকাতার হাসপাতালে করা হয়নি। আদালত আপনাকে তখনই যেতে দিতে পারে, যদি এখানে এই চিকিৎসা না করা যায়।” কখনও SSKM-এ গিয়েছিলেন কি না, সে প্রশ্নও তুলেছিল আদালত। হাইকোর্টের বক্তব্য ছিল, কলকাতায় চিকিৎসকরা একটা বোর্ড গঠন করুক। মেডিক্যাল বোর্ড যদি মনে করে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রা প্রয়োজন, তাহলে যেতে পারবেন অভিষেক।

সুপ্রিম দুয়ারে অভিষেক

সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে অভিষেক পৌঁছে যান সুপ্রিম কোর্টে। অভিষেকের আইনজীবী জানান, ডিজে মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তদন্তে সহযোগিতা করেছেন তিনি। কণ্ঠস্বরের নমুনাও দিয়েছেন। এরপরও তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে সেই সময় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মামলা খারিজ করে ফের কলকাতা হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয়।

পুনরায় হাইকোর্টের নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টের অনেক বিচারপতি দেশেই চিকিৎসা করান,এ কথা উল্লেখ করে SSKM-এ যাওয়ার পরামর্শ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য একক বেঞ্চ। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “যে কোনও নাগরিক যে কোনও জায়গায় চিকিৎসার জন্য যেতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে একাধিক মামলা রয়েছে। যার মধ্যে তিনটে মামলা বিচারাধীন এবং তদন্ত চলছে। তাই আদালত এবিষয়ে এসএসকেএম-র পরামর্শ চেয়েছিল।” তবে, অভিষেকের আইনজীবী রেবেকা জন জানিয়েছিলেন, সাংসদ SSKM-এ চিকিৎসা করাতে চান না।

এরপর আবার দ্বারস্থ হন সুপ্রিম কোর্ট। আজ অর্থাৎ সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তাঁকে গ্রিন সিগন্যাল দিল বিদেশ যাত্রায়।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us