Supreme Court: গর্ভে ৪ মাসের সন্তানকে নিয়েই হয়েছিলেন ‘একা’, সেই ইঞ্জিনিয়ার মায়ের পক্ষেই বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট

নিমহ্যান্সে (NIMHANS) একজন মনস্তত্ত্ববিদের সামনে এক সন্তান তার বাবার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনার পর 'পকসো' (POCSO) আইনে একটি ফৌজদারি মামলাও হয়েছে। তদন্তের পর অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায় যে, মামলাটি বিচারাধীন থাকায় বাবাকে সন্তানদের দায়িত্ব দেওয়া একেবারেই উচিৎ নয়।

Supreme Court: গর্ভে ৪ মাসের সন্তানকে নিয়েই হয়েছিলেন একা, সেই ইঞ্জিনিয়ার মায়ের পক্ষেই বড় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্টImage Credit source: PTI

Oct 04, 2026 | 8:09 PM

নয়া দিল্লি: চার মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা অবস্থায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়েছিলেন এক মহিলা। তারপর থেকে দুই সন্তানকে একা হাতেই বড় করেছেন। সামলেছেন নিজের কেরিয়ারও। সেই মা এখন চান দুই সন্তানকে বিদেশে নিয়ে যেতে। কিন্তু বাবার কাস্টডিতে থাকা সন্তানকে নিয়ে যেতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হতে হয়েছিল মা-কে।

মামলার সূত্রপাত

সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে এই মামলা। দম্পতির বিয়ে হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০১৮ সালে তাঁরা আলাদা হয়ে যান। তখন ওই মহিলা চার মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিলেন। এরপর থেকে তিনি একাই দুই সন্তানকে মানুষ করেন। তাঁর এক ছেলের বয়স এখন প্রায় ১৩ বছর আর মেয়ের বয়স প্রায় ৭ বছর।

শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার পর ওই মা নিজেকে ও সন্তানদের ভরণপোষণ চালানোর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেন। তিনি প্রথমে আইআইটি যোধপুর এবং পরবর্তীতে বিজয়ওয়াড়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেন। পরে তিনি বেঙ্গালুরুতে চলে যান। তিনি আদালতে জানান, তাঁর আলাদা হয়ে যাওয়া স্বামীর তৈরি করা বিভিন্ন সমস্যার কারণে বাধ্য হয়েই তাঁকে বারবার চাকরি পরিবর্তন করতে হয়েছিল। তাঁর স্বামী বারবার তাঁর প্রতিষ্ঠানে নানারকম প্রশ্ন নিয়ে যেতেন।

এভাবে বারবার কর্মস্থল পরিবর্তনের বিষয়টিকে ‘যাযাবর জীবন’ হিসেবে দেখা হয়েছিল এবং বাবাকেই সন্তানদের সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবার তিনি হাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (University of Hull) প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মাসিক বেতনের একটি লেকচারারের চাকরি পেয়েছেন। সন্তানদের সেখানে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেছেন ওই মহিলা।

মায়ের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি শীর্ষ আদালতের

বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে ছিল মামলার শুনানি। সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, ওই মহিলা সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবেই শিক্ষা জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। সেইসঙ্গে নিজের কেরিয়ারও সামলেছেন। স্বামী যেখানে বারবার মামলা করেছেন, সেখানে নানা ধরনের আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েও মা নতুন নতুন চাকরির চেষ্টা করেছেন এবং সন্তানদের জন্য আরও ভালো কিছু করার কথা ভেবেছেন। অন্যদিকে, বাবা সন্তানদের কেরিয়ার গড়ার থেকে মামলায় বেশি মন দিয়েছেন।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিমহ্যান্সে (NIMHANS) একজন মনস্তত্ত্ববিদের সামনে এক সন্তান তার বাবার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনার পর ‘পকসো’ (POCSO) আইনে একটি ফৌজদারি মামলাও হয়েছে। তদন্তের পর অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায় যে, মামলাটি বিচারাধীন থাকায় বাবাকে সন্তানদের দায়িত্ব দেওয়া একেবারেই উচিৎ নয়।

সুপ্রিম কোর্টের রায়

সুপ্রিম কোর্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রিধারী ওই শিক্ষিকাকে তাঁর দুই সন্তানের কাস্টডি দিয়েছে। তাদের বিদেশে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us