
নয়া দিল্লি: ২০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে UPI-তে চার্জ ধার্য করা হচ্ছে কেন, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চে ছিল ইউপিআই সংক্রান্ত মামলার শুনানি। ইউপিআই (UPI) চার্জ নিয়ে আইনজীবী অঞ্জন দত্ত অর্থ মন্ত্রকের দেওয়া নির্দেশিকার বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন।
এদিন শুনানির শুরুতে কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (ASG) এন ভেঙ্কটরামন জানান, এই চার্জ কার্যকর হবে ১৫ অক্টোবর থেকে। এছাড়াও তিনি বলেন, ৯৬ শতাংশ লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনও চার্জ লাগবে না এবং জরুরি পরিষেবাগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৫ টাকা চার্জ ধার্য করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি কোনও কর (tax) বা ফি (fee) নয়।
এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নির্দেশ দেন, এই সব তথ্যগুলো হলফনামার আকারে জানাতে হবে। অন্যদিকে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানতে চান, এটি যদি কর বা ফি না হয়, তবে এই টাকা নেওয়ার আইনি বা প্রশাসনিক ভিত্তি কী? এর বিনিময়ে কী পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে, সেটাও জানতে চান তিনি।
বিচারপতিদের প্রশ্নের উত্তরে এএসজি স্পষ্টভাবে জানান যে, কোনও টাকা বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, “ভারত সরকার এই চার্জ থেকে ১ টাকাও নিচ্ছে না। এটি মূলত পেমেন্ট এগ্রিগেটর এবং ব্যাঙ্কগুলোর মধ্যে থাকা ফি বলে উল্লেখ করেন তিনি। ব্যাখ্যা দেন, ব্যাঙ্কগুলো যখন ইলেকট্রনিক লেনদেন করায়, তখন একটি নির্দিষ্ট খরচ জড়িত থাকে। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড লেনদেনেও চার্জ ধার্য করা হয়, কিন্তু এতদিন UPI লেনদেনকে সেই চার্জের বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে পুরো ইকোসিস্টেম সচল রাখতে এই চার্জ নেওয়া প্রয়োজন।”
বিচারপতি বাগচী আরও প্রশ্ন করেন, UPI-এর ক্ষেত্রে এই টাকাটা কে পায়? এর আইনি ভিত্তি কী, সেই প্রশ্নও করেন বিচারপতি। কেন্দ্র, আরবিআই (RBI) এবং ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCI)-কে নোটিস জারি করেছে বিচারপতি। আবেদনকারীর আইনজীবী এই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার আবেদন জানালেও শীর্ষ আদালত স্থগিতাদেশ দেয়নি। আবেদনকারীর যুক্তি হল, বাণিজ্যিক UPI লেনদেনে চার্জ বসানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর পড়তে পারে, কারণ ব্যবসায়ীরা এই অতিরিক্ত খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে।