
চেন্নাই: তামিলনাড়ুতে অদ্ভুত অচলাবস্থা। সবথেকে বেশি আসন জিতেও সরকার গড়তে পারছে না বিজয়ের দল টিভিকে। এদিকে দুই প্রধান প্রতিপক্ষ দল- ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে জোট বেঁধে সরকার গড়তে পারে, এমন জল্পনাও শোনা যাচ্ছে। রাজ্যপাল বারবার ফিরিয়ে দেওয়ায় এবার চরম হুমকি দিলেন বিজয়। গণ ইস্তফা দিতে পারে তামিলাগা ভেট্টরি কাজ়াগামের সকল নির্বাচিত বিধায়করা।
টিভিকে-র তরফে জানানো হয়েছে, তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে যদি এমকে স্ট্যালিনের ডিএমকে (DMK) এবং ইকে পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে (AIADMK) জোট বেঁধে সরকার গঠন করার চেষ্টা করে, তাহলে টিভিকে-র সকল বিধায়করা গণইস্তফা দেবেন।
বিজয় নিজে এই ঘোষণা না করলেও, তার দলের অন্দর থেকেই এই খবর এসেছে। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পরও যেভাবে বারবার রাজ্যপাল তাদের সরকার গঠনে বাধা দিচ্ছেন, খালি হাতে ফিরিয়ে দিচ্ছেন, তাতে ক্ষুব্ধ-বিরক্ত নবনির্বাচিত বিধায়করা।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজয়ের দল টিভিকে। ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি আসন, এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। কোনও দলই ম্যাজিক ফিগার পার করতে না পারলেও, সংখ্যার বিচারে বিজয়ের দলই সবথেকে বেশি আসন পেয়েছে। কংগ্রেস টিভিকে-কে সমর্থন জানাচ্ছে, তাদের পাঁচ জন বিধায়ক নিয়ে টিভিকে-র সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১১৩।
অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া বিজয় বিগত দুইদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের আবেদন জানিয়েছেন, কিন্তু দুইদিনই রাজ্যপাল তাঁকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে আসতে। বিজয়ের বক্তব্য, এর আগেও একাধিক এমন উদাহরণ রয়েছে যেখানে ম্যাজিক ফিগার না ছুঁলেও সরকার গঠন করেছে কোনও রাজনৈতিক দল। তাহলে তাঁকে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন?
সরকার গঠন নিয়ে যখন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তখনই শোনা যাচ্ছে দুই প্রতিপক্ষ ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে জোটের আলোচনা করছে। বিজয় যাতে সরকার গঠন করতে না পারে, তার জন্যই এই চেষ্টা। আর এতেই ক্ষুব্ধ বিজয় ও তাঁর দল। সর্বাধিক আসনে জয়ী হয়েও যদি তারা সরকার গঠন করতে না পারে, তাহলে তা গণতন্ত্রের প্রহসন হবে, এমনটাই বলছেন টিভিকে-র নেতারা। উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে ৯ মে।