
চেন্নাই : ঠিক যেন নাটকের স্ক্রিপ্ট। যার প্রতি মুহূর্তে একটা করে টুইস্ট। পাঁচ দিন কেটে গেলেও এখনও তামিলনাড়ুতে সরকার (Tamil Nadu Government) গঠন হয়নি। কে সরকার গঠন করবে, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। জনগণের রায় অনুযায়ী, সর্বাধিক আসনে জয়ী হয়েছে দল টিভিকে (TVK)। কিন্তু, সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে সরকার গঠন করতে পারছে না। বারবার রাজ্যপাল ফিরিয়ে দিচ্ছেন বিজয়কে। শেষপর্যন্ত যা খবর, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজও শপথ গ্রহণ করতে পারছেন না বিজয় (Vijay)। সরকার গঠনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই আরও একটা টুইস্ট। দক্ষিণের রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদে উঠে আসছে আরও একটা নাম। যাঁর দল তুলনায় ছোট, নির্বাচনেও মাত্র দু’টি আসন জিতেছে। তাহলে কোন অঙ্কে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সম্ভব তাঁর?
দলের নাম বিদুতলাই চিরুথাইগাল কাচ্চি বা ভিসিকে (VCK)। এই দলের প্রধান থোল থিরুমাভালাভান। তাঁর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জল্পনা উস্কে দেওয়া হচ্ছে বারবার। জানা গিয়েছে, টিভিকে-র সরকার গঠনের জন্য আর দু’জন বিধায়ক প্রয়োজন। মোট ১০৮টি আসনে জিতেছিল বিজয়ের টিভিকে। আর সরকার গঠনের জন্য ম্যাজিক ফিগার ১১৮। ইতিমধ্যেই সমর্থন পেয়ে ১১৬-তে পৌঁছেছে বিজয়ের দল। বাকি আর দু’টি আসন। এই দু’টি আসনের জন্য ভিসিকে-র সমর্থন চেয়েছিলেন বিজয়। প্রথমে শোনা গিয়েছিল ভিসিকে হয়তো টিভিকে-কে সমর্থন করতে পারে। কিন্তু, ভিসিকে-র তরফে এখনও এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে যে কোনও মুহূর্তে হাওয়া ঘুরিয়ে দিতে পারে প্রতিপক্ষ দুই দল AIADMK ও DMK। জোট বেঁধে সরকার গড়তে পারে তারা। আর এই জোটের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন থোল থিরুমাভালাভান। এমনটাই সূত্র মারফত খবর পাওয়া যাচ্ছে। জোট নিয়ে এআইএডিএমকে-কে শর্ত দিয়েছে ডিএমকে। শর্তে একাধিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, তারই মধ্যে একটি হল ভিসিকে-র মতো জোটসঙ্গীকে মন্ত্রী আসন দিতে হবে। তাহলে কি মুখ্যমন্ত্রীর পদের ইঙ্গিতই দেওয়া হয়েছে? যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও ঘোষণা করা হয়নি। সবটাই সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, ডিএমকে-র কথাতেই বিজয়ের দলকে সমর্থন জানায়নি ভিসিকে। যদিও ভিসিকে এখনও তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। তারা যদি কোনওভাবে সমর্থন করে বিজয়ের দলকে, তাহলে টিভিকে-ই সরকার গঠন করবে। আর যদি সমর্থন না করে তাহলে AIADMK ও DMK জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে পারে। অর্থাৎ, তামিলনাড়ুর ভাগ্য এখন খানিকটা ভিসিকে-এর হাতেই রয়েছে। এমনই মনে করছে রাজনৈতিক সমালোচকরা।
জোট রাজনীতিতে সবকিছুই সম্ভব। যে কোনও নেতাই মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন, যদি তিনি উক্ত বিধানসভার সদস্য হন এবং রাজ্যপালের কাছে সমর্থনপত্র পাঠিয়ে অথবা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে নিজের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করতে পারেন।