
ঝাঁসি: বাড়িতে ছিল তিনটি মোষ। সেই মোষ পালন করেই চলত সংসার। সম্প্রতি একটি মোষ হারিয়ে যায়। এর পর থেকেই মনমরা হয়ে পড়েছিল মেয়েটি। কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলছিল না। খাবারও খাচ্ছিল না ঠিকমতো। এর পরই ওই কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ঘর থেকে। মোষ হারিয়ে যাওয়ার দুঃখেই ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেছে বলেছে জানিয়েছেন তার পরিবারের লোকেরা। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের জালাউন জেলার কুরোনা গ্রামে। মোষ হারানোর দুঃখ তো ছিলই, কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় আরও ভেঙে পড়েছে ওই পরিবার।
উত্তর প্রদেশের কুরোনা গ্রামে বাড়ি বাইনি কেবতের। তাঁর বাড়িতেই ছিল তিনটি মোষ। বাইনির মেয়ে ওই তিনটি মোষের দেখাশোনা করত। তাদের খেতে দেওয়া, দুধ দোয়ানো, গোয়াল পরিষ্কার করার মতো সব কাজই বাবার সঙ্গে করত সে। গৃহপালিত ওই প্রাণীদের তাঁর মেয়ে বড্ড ভালোবাসত বলে জানিয়েছেন বাইনি। ওই মোষরা মেয়েটির খেলার সঙ্গীও ছিল। সম্প্রতি মাঠে চড়তে গিয়েছিল তিনটি মোষ। কিন্তু দু’টি মোষ ফিরলেও অপর একটি ফেরেনি। এর পর সারা গ্রামে খোঁজ চালানো হয়। তন্নতন্ন করে খুঁজেও সন্ধান মেলেনি মোষের। পুলিশের কাছেও বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তার পরও নিখোঁজ মোষ খুঁজে পাননি বাইনি। মোষ হারানোর পর থেকেই মন খারাপ ছিল বাইনির মেয়ের।
এ বিষয়ে বাইনি বলেছেন, “মোষ হারানোর পর থেকেই মেয়ের মম খারাপ ছিল। খুব হতাশ বয়ে পড়েছিল। আমাদের সঙ্গে ঠিক মতো কথা বলছিল না। কিন্তু আমরা ভাবতে পারিনি ও এ রকম ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবে।” ঘরে মেয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়েই তাঁকে ঝাঁসির হাসপাতালের নিয়ে গিয়েছিলেন বাইনি।। কিন্তু তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পুলিশেও খবর দেওয়া হয়। যদিও এ নিয়ে কোনও মামলা দায়ের করেনি পুলিশ।