
হায়দরাবাদ: শোরুমে ২ ঘণ্টা ধরে চলল কয়েন গোনা! ১০ টাকার খুচরো জমিয়ে ১.২৩ লক্ষের গাড়ি কিনে ভাইরাল প্রৌঢ়। কথায় বলে, ‘বিন্দু বিন্দু জলেই সিন্ধু হয়।’ এই প্রবাদটিকে আবারও সত্যি প্রমাণ করলেন তেলঙ্গানার এক বাসিন্দা। গত তিন বছর ধরে জমানো প্রতিটি ১০ টাকার কয়েন একত্রিত করে তিনি কিনে ফেললেন নিজের পছন্দের একটি ব্র্যান্ড নিউ স্কুটার।
ডিজিটাল লেনদেনের এই যুগে যেখানে খুচরো পয়সার চল প্রায় উঠেই গেছে, সেখানে এক বস্তা কয়েন নিয়ে শোরুমে গিয়ে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি।চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে তেলঙ্গানার মাঞ্চেরিয়াল জেলার লাক্সেটিপেট (Luxettipet) এলাকায়।
ক্রেতার নাম বি রবি জোসেফ, পেশায় তিনি একজন চার্চের পাস্টর এবং বয়স ৫১ বছর। তিনি বাজার-হাট বা দৈনন্দিন কেনাকাটার পর ফেরত পাওয়া ১০ টাকার কয়েনগুলি খরচ না করে জমিয়ে রাখার অভ্যাস তৈরি করেছিলেন। এভাবেই দীর্ঘ তিন বছর ধরে একটু একটু করে জমতে থাকে খুচরো পয়সা।
পরিবারের সদস্যরা এবং পরিচিতরা অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। বাজারে ১০ টাকার কয়েন বাতিলের বা অচল হওয়ার নানান গুজব ছড়ানো সত্ত্বেও রবি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন এবং সঞ্চয় চালিয়ে যান।
অবশেষে তার জমানো কয়েনের সংখ্যা দাঁড়ায় মোট ১২,৩০০ টি, যার মোট আর্থিক মূল্য ১.২৩ লক্ষ টাকা। এই বিপুল পরিমাণ কয়েন নিয়ে তিনি লাক্সেটিপেটের ‘জগদম্বা হোন্ডা মোটরস’ শোরুমে পৌঁছন। শোরুমের কর্মচারীরা প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও, তারা অত্যন্ত সহযোগিতার সাথে টাকা গ্রহণ করেন।
শোরুমের বেশ কয়েকজন কর্মী মিলে প্রায় দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে অবিরাম সেই ১২,৩০০টি কয়েন গুণে নিশ্চিত করেন। এরপরই রবির হাতে তুলে দেওয়া হয় তার বহু প্রতীক্ষিত সাদা রঙের হোন্ডা অ্যাক্টিভা (Honda Activa)।
যদিও রবি জোসেফ জানান, তার আসল ইচ্ছা ছিল একটি রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট কেনার, কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি তা পারেননি। তবে এই সঞ্চয়ের মাধ্যমে অন্তত একটি নতুন দু’চাকার গাড়ি কিনতে পেরে তিনি অত্যন্ত খুশি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অভিনব ঘটনার কথা জানাজানি হতেই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা রবি জোসেফের এই অসামান্য ধৈর্য এবং আর্থিক শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করছেন। মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে এই ঘটনাটি একটি বড় অনুপ্রেরণা, যা প্রমাণ করে যে ছোট ছোট সঞ্চয়ও ভবিষ্যতে বড় স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করতে পারে।