Article 21 Fundamental Rights: সংবিধানের সেই ছয়টি শব্দ, যার গুরুত্ব ছাপিয়ে গিয়েছে সব প্রত্যাশাকে

How Article 21 Expanded the Right to Life and Personal Liberty: সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে শুরুতে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষার কথা সংক্ষেপে বলা হয়েছিল। আজকের 'YOUR INDIA' কলামে সন্তোষ নায়ার তুলে ধরেছেন, কীভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। ন্যায্যতা, জীবিকা, গোপনীয়তা, মর্যাদা-সহ আরও নানা অধিকার ও সুরক্ষা কীভাবে এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং আজকের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে, তা-ই উঠে এসেছে এই লেখায়।

Article 21 Fundamental Rights: সংবিধানের সেই ছয়টি শব্দ, যার গুরুত্ব ছাপিয়ে গিয়েছে সব প্রত্যাশাকে
কীভাবে পাসপোর্ট সংক্রান্ত একটি মামলা বদলে দিল ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা?Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Oct 28, 2026 | 2:50 PM

ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে রয়েছে মাত্র ৬টি শব্দ, যার গুরুত্ব অপরিসীম। “আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি ছাড়া কোনও ব্যক্তিকে তাঁর জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।” দ্রুত পড়লে মনে হতে পারে, এই অনুচ্ছেদের পরিধি খুবই সীমিত। মূলত কাউকে খেয়ালখুশি মতো গ্রেফতার করা বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দেওয়াই যেন এর উদ্দেশ্য। স্বাধীনতার পর প্রথম তিন দশক ধরে আদালতও অনেকাংশে এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই অনুচ্ছেদটির ব্যাখ্যা করেছে।

কিন্তু ১৯৭৮ সালে একটি মামলা সেই ছয়টি শব্দের অর্থই বদলে দেয়। এক মহিলাকে কোনও কারণ না দেখিয়ে পাসপোর্ট থেকে বঞ্চিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ওই মামলার পর ভারতীয় নাগরিকদের কাছে অনুচ্ছেদ ২১-এর তাৎপর্য চিরতরে বদলে যায়।

সাংবাদিক মানেকা গান্ধীর পাসপোর্ট কোনও কারণ না দেখিয়েই বাজেয়াপ্ত করেছিল সরকার। নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগও তাঁকে দেওয়া হয়নি। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। Maneka Gandhi v Union of India মামলায় আদালত এমন একটি ব্যাখ্যা দেয়, যা ততদিন পর্যন্ত সংবিধানের মূল পাঠে স্পষ্টভাবে বলা ছিল না। আদালত জানায়, কোনও আইন যদি একজন ব্যক্তির জীবন বা ব্যক্তিস্বাধীনতা কেড়ে নেয়, তাহলে সেই আইন শুধু কাগজে-কলমে থাকলেই চলবে না। বাস্তবে তার প্রয়োগও হতে হবে ন্যায্য, সুবিচারপূর্ণ ও যুক্তিসংগত। অর্থাৎ, কোনও পদ্ধতি আইনসম্মত বলে দাবি করা হলেও তার প্রয়োগ যদি খামখেয়ালিপূর্ণ হয়, তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

কীভাবে পাসপোর্ট সংক্রান্ত একটি মামলা বদলে দিল ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা?

সেই একটি রায় এমন একটি দরজা খুলে দিয়েছিল, যা আজও খোলা রয়েছে। পরবর্তী প্রজন্মের বিচারপতিরা ধাপে ধাপে সেই পথেই এগিয়েছেন। ১৯৮৫ সালে Olga Tellis v Bombay Municipal Corporation মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বেঁচে থাকার অধিকারের মধ্যে জীবিকার অধিকারও অন্তর্ভুক্ত। কারণ, কোনও ব্যক্তিকে যদি তাঁর জীবিকা অর্জনের একমাত্র জায়গা থেকে উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে বাস্তব অর্থে তাঁকে শুধু আশ্রয় থেকেই বঞ্চিত করা হয় না, তাঁর জীবনধারণের অধিকারও বিপন্ন হয়।

১৯৯৪ সালে R. Rajagopal v State of Tamil Nadu মামলায় আদালত ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের মধ্যে নিহিত গোপনীয়তার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। এর ফলে অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ করার বিরুদ্ধে সুরক্ষার পথ প্রশস্ত হয়।

২০১৭ সালে সেই ধারণা আরও পূর্ণতা পায়। Justice K.S. Puttaswamy v Union of India মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে ঘোষণা করে, গোপনীয়তার অধিকার প্রত্যেক ভারতীয়ের একটি মৌলিক অধিকার। এই রায় আজ ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন থেকে শুরু করে আধার কার্ডের ব্যবহার কোথায় করা যাবে আর কোথায় যাবে না, সেই প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

২০১৮ সালে Navtej Singh Johar v Union of India মামলায় একই ছয়টি শব্দের ব্যাখ্যার মাধ্যমে LGBTQ+ সম্প্রদায়ের ভারতীয় নাগরিকদের মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। সম্মতিপূর্ণ প্রাপ্তবয়স্কদের সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা ঔপনিবেশিক আমলের আইন বাতিল করে দেয় আদালত। সেই বছরই Common Cause v Union of India মামলায় সুপ্রিম কোর্ট মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুবরণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। জীবনের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আগাম চিকিৎসা নির্দেশিকার অনুমতিও দেওয়া হয়।

কীভাবে ছয়টি শব্দের পরিধিতে এল গোপনীয়তা, মর্যাদা ও জীবিকার অধিকার?

এই অধিকারগুলির কোনওটিই সংবিধানের মূল পাঠে হুবহু ও স্পষ্টভাবে লেখা নেই। জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সংক্রান্ত ওই ছয়টি শব্দের মধ্যেই বিচারপতিরা এই অধিকারগুলিকে খুঁজে নিয়েছেন। চার দশক ধরে তাঁদের সামনে ঘুরেফিরে এসেছে একটি প্রশ্ন—শুধু বেঁচে থাকা নয়, প্রকৃত অর্থে জীবনযাপনের মানে কী?

সাধারণ নাগরিকের কাছে এই ইতিহাস অত্যন্ত বাস্তব একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ ভারতীয় মৌলিক অধিকার সম্পর্কে পড়াশোনা করেন একটি নির্দিষ্ট তালিকা হিসেবে। স্কুলের নাগরিকশাস্ত্রের ক্লাসে একবার শেখা হয়, তারপর খুব কমই তা নিয়ে নতুন করে ভাবা হয়। কিন্তু ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ কখনও একটি স্থির তালিকার মতো কাজ করেনি। বরং এটি একটি জীবন্ত নীতির মতো বিকশিত হয়েছে। ভারতীয় সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এবং নাগরিকেরা আদালতে নতুন ধরনের ক্ষতি ও অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধিও বেড়েছে।

১৯৪৯ সালে সংবিধান প্রণেতারা ডিজিটাল গোপনীয়তা বা জীবনের শেষ পর্যায়ে ব্যক্তির নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের মতো বিষয়গুলি নির্দিষ্টভাবে কল্পনা করতে পারেননি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আদালত ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে এই নতুন বাস্তবতাগুলিকেও সাংবিধানিক সুরক্ষার আওতায় এনেছে।

আজ কোনও সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন সমস্যার কথা ভাবুন। কোনও সরকারি দফতর আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট না করেই নথিপত্র চাইছে, কোনও বেসরকারি সংস্থা প্রকৃত সম্মতি ছাড়াই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে, কিংবা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই কাউকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনা আলাদা এবং ব্যক্তিগতভাবে ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু এগুলির প্রত্যেকটিই সেই একই সাংবিধানিক ধারার সঙ্গে যুক্ত, যার সূচনা হয়েছিল এক সাংবাদিকের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

এই সুরক্ষার দাবি জানাতে কোনও নাগরিককে বড় বড় সাংবিধানিক শব্দ ব্যবহার করতে হবে না। মূল নীতিটি সহজ—কোনও ব্যক্তির জীবন ও স্বাধীনতার ওপর সরকারের ক্ষমতার প্রয়োগ হতে হবে ন্যায্য ও যুক্তিসংগত এবং সেই পদক্ষেপকে প্রশ্ন করার সুযোগও থাকতে হবে।

দৈনন্দিন জীবনে আজও কেন গুরুত্বপূর্ণ ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ?

এই কারণেই সংবিধান সম্পর্কে সচেতনতা শুধু অনুচ্ছেদের নম্বর মুখস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ যে স্থির নয়, বরং সাধারণ মানুষের দায়ের করা বাস্তব মামলার মধ্য দিয়ে ক্রমাগত বিস্তৃত হয়েছে—এই বিষয়টি জানা থাকলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিজের বিরোধ বা সমস্যাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যেতে পারে। এই অধিকারগুলির বিকাশ শুধু সংসদে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে হয়নি, আদালতে নাগরিকদের আনা মামলাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

সংবিধানের প্রতিশ্রুতি ১৯৫০ সালেই থেমে যায়নি। নাগরিকেরা যখন আদালতের সামনে একটি সহজ প্রশ্ন তুলে ধরেছেন, তখন থেকেই সংবিধানের ব্যাখ্যা সক্রিয়ভাবে ও ধারাবাহিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে—এই পদক্ষেপ কি সত্যিই আমার জীবন ও স্বাধীনতাকে সম্মান করছে, নাকি শুধু তা করার দাবি করছে?

পরের বার কেউ যদি বলেন, সংবিধানে যা লেখা আছে, অধিকার শুধু ততটুকুই—তখন মানেকা গান্ধীর পাসপোর্টের কথা মনে করা যেতে পারে। আর মনে রাখা যেতে পারে, সেই ছয়টি শব্দ থেকে পরবর্তী সময়ে কত কিছুই না বিকশিত হয়েছে।

সূত্র: Maneka Gandhi v Union of India (১৯৭৮), Olga Tellis v Bombay Municipal Corporation (১৯৮৫), R. Rajagopal v State of Tamil Nadu (১৯৯৪), Justice K.S. Puttaswamy v Union of India (২০১৭), Navtej Singh Johar v Union of India (২০১৮) এবং Common Cause v Union of India (২০১৮)—ভারতের সুপ্রিম কোর্ট; সুপ্রিম কোর্ট অবজারভার, ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত বিচারবিভাগীয় রায়ের কালানুক্রমিক বিবরণ।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us