
গান্ধীনগর: গোহত্যা (Cow Slaughter) মামলায় তিন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল গুজরাটের আদালত। কড়া পদক্ষেপ না করা হলে এই পবিত্র পশু ক্রমশ বিলুপ্তির পথে চলে যাবে বলে পর্যবেক্ষণ গান্ধীনগর জেলা আদালতের। গরুর অর্থনৈতিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেছে ওই আদালত। মনুস্মৃতি, ঋগ্বেদের মতো হিন্দু ধর্ম সম্পর্কিত বইয়ের কথা উল্লেখ করে আদালত বলেছে, গরুকে রক্ষা করার নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
২৭৭ কেজি গোমাংস উদ্ধার হওয়ায় মামলার সূত্রপাত। উদ্ধার হয় গরু কাটার যন্ত্র, গাড়িও। তদন্তকারীরা রিপোর্টে জানান, অভিযুক্তরা গোহত্যা করেছিলেন বাণিজ্যিক কাজে লাগানোর জন্য। মাংস কেটে বিলি করার পরিকল্পনা ছিল বলেও জানানো হয়। প্রাথমিকভাবে ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ৫৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
তিন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া পাশাপাশি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে গরু ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝিয়ে দিয়েছে আদালত। গরুকে ‘সব দেবতার মা’ হিসেবে বর্ণনা করে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, ঋগ্বেদে গরুকে অধন্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্থ তাকে কখনই আঘাত করা যায় না বা মারা যায় না।
গোহত্যাকে সাধারণ অপরাধ বলে গণ্য করা যায় না, মনে করিয়ে দিয়েছে জেলা আদালত। কারণ এতে ঐতিহ্যে ও মানবিকতায় আঘাত লাগে। জেলা আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, যদি বাণিজ্যিক কারণে অভিযুক্তরা এই কাজ করে থাকে, তাহলে কড়া শাস্তি পেতে হবে। নাহলে গরুর অস্তিত্ব নিয়ে সঙ্কট দেখা দেবে।