
নয়া দিল্লি: লোকসভা (Lok Sabha) থেকে সাসপেন্ড তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। অসংসদীয় আচরণের জন্য সাসপেন্ড করা হল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা বাদল অধিবেশনের জন্য তাঁকে সাসপেন্ড করা হল। এনসিপিআই সাংসদ মিতালী বাগের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এনসিপিআই সাংসদ মিতালী বাগের সঙ্গে বচসা শুরু হয় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মিতালী বাগকে নিয়ে কটূক্তি করেন কল্যাণ। সেই সময় বাপি হালদার সহ বাকি সাংসদরা এগিয়ে আসেন এবং তারাও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। এর আগেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তিনি। আজও একই ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকেও অসম্মান করেছেন কল্যাণ, এমনটাই অভিযোগ। বচসা থেকে প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে যায়, এমনটাই সূত্রের খবর।
এরপরই আজ এনসিপিআই সাংসদরা লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান কল্যাণের বিরুদ্ধে। বারংবার মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন কল্যাণ, এমনটাই অভিযোগ করা হয়। লোকসভায় অসংসদীয় আচরণের প্রস্তাব আনেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। বেনজির ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাসপেন্ড করা হয় কল্যাণকে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা। বিধানসভা নির্বাচনের পরই ভেঙে টুকরো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, এখন কালীঘাট তৃণমূলে মাত্র হাতে গোনা সাতজন সাংসদ পড়ে রয়েছে। সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ ছিলেন কল্যাণ। সমস্ত ইস্যুতেই তিনি মুখ খোলেন, সরব হন। সেখানে গোটা বাদল অধিবেশন থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেন্ড হওয়া বড় ধাক্কা তৃণমূলের জন্য।
এই নিয়ে শতাব্দী রায় বলেন, “কল্যাণদা এটা সবসময় করেন। সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। মহিলাদের গালাগালি দেন। একদম নিচু স্তরের গালাগালি করেন। এই নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল দিদিকে। ওঁর সাহস বেড়ে গিয়েছে দিনে দিনে। কোনও মহিলা ওঁকে সমর্থন করেন না। আমরা স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেছি। স্পিকারকে ধন্যবাদ।”
অন্যদিকে কুণাল ঘোষ বলেন, “ওরা তো ২০টা বেইমান। ২০২৪ সালে যারা সাংসদ হয়েছেন, বিজেপি বিরোধী মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হিসাবে ভোটে জয়ী হয়েছেন। ২০২৯ সালে মেয়াদ শেষ। মাঝপথে কীভাবে তাদের দল বদলে যেতে পারে? কী করে তারা দলের বিরুদ্ধে যেতে পারেন? আজকে বিজেপির দালালি করতে যাচ্ছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যদি কিছু বলে থাকেন, একশোয় একশোভাগ ঠিক বলেছেন।”