
নয়া দিল্লি: টিভি নাইন নেটওয়ার্কের ফ্ল্যাগশিপ কনক্লেভ হোয়াট ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুডের আজ তৃতীয় দিন। এদিন টিভি নাইনের ‘সত্তা সম্মেলনের’ মঞ্চকে আলোকিত করে তুললেন জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। জম্মু ও কাশ্মীরের সামগ্রিক চিত্র কীভাবে বদলাচ্ছে, কীভাবে উপত্যকায় শান্তি ফিরেছে, সেই সব বিষয়ের উপর আজকের সত্তা সম্মেলনে আলোকপাত করেন তিনি। এখন কাশ্মীরে যেভাবে শান্তি ফিরে এসেছে, সেই প্রসঙ্গে মন্তব্য করার সময় লেফটেন্যান্ট গভর্নর বলেন, ‘আগে কাশ্মীরে শান্তি কিনতে হত, এখন সেখানে সুশাসন ফিরেছে।’ সঠিক সময়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের তকমাও দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা।
এদিন হোয়াট ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুডের ‘সত্তা সম্মেলন’-এর মঞ্চে ‘কাশ্মীরের নতুন কাহিনি’ আলোচনাসভাকে নিজের আলোকোজ্জ্বল উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্ণময় করে তোলেন জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। তিনি বলেন, “আজ জম্মু ও কাশ্মীরে সব ধর্মের মানুষের নিজের নিজের উৎসব পালন করার স্বাধীনতা রয়েছে। এখন উপত্যকার ছবি পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। এখন জম্মু ও কাশ্মীরে যে কেউ জমি কিনতে পারেন। বর্তমান সময়ে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা এখানে সুরক্ষিত বোধ করছেন।’
কাশ্মীরের পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে বদলেছে, সেই বিষয়েও এদিন আলোকপাত করেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। বিশেষ করে আগের তুলনায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে কাশ্মীরে, সে কথা আজ সত্তা সম্মেলনের মঞ্চে বোঝান তিনি। কাশ্মীরের পরিবর্তিত চিত্রের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন কাশ্মীরের যুবকদের রাত ১১টার সময়েও ঝিলাম নদীর ধারে বসে গিটার বাজাতে দেখা যায়। ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর থেকে কাশ্মীরের ছবি পুরো বদলে গিয়েছে। আমার মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নীতির জন্যই এই সাফল্য এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকার এখন আর শান্তি কেনায় বিশ্বাস রাখে না। আগে এখানে শান্তি কেনা হত। কিন্তু এখন কেন্দ্রীয় সরকার ও জম্মু ও কাশ্মীরের প্রশাসন উপত্যকায় স্থায়ীভাবে শান্তি ফেরানোর উপর বিশ্বাস রাখে। এখন কাশ্মীরে সুশাসিত স্থাপিত হয়েছে।’
আগে কীভাবে শান্তি কেনা হত, সেই বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা। শান্তি কেনা বলতে তিনি যা বোঝাতে চান তা হল, “যারা শান্তি ফেরানোর পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করত, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হত। যাদের জেলে থাকার কথা, তাদের বিমানে করে শ্রীনগর থেকে দিল্লিতে ডেকে নিয়ে গিয়ে আলোচনা করা হত। এভাবেই হত শান্তি কেনার প্রক্রিয়া। আমি যখন সেখানে দায়িত্ব নিয়ে যাই, তখন সন্ত্রাসবাদী গতিবিধির সঙ্গে যোগের সন্দেহ রয়েছে এমন ৫৪ জনকে সরকারি চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত অনেক পরিবারই আগে সরকারি কাজকর্মে যুক্ত ছিল।”