El Nino Effect-Drought Risk: ১৯০১ সালের পর অন্যতম ‘শুষ্ক’ জুন দেখল ভারত, El Nino কি এবার খরা আনবে? তড়িঘড়ি বৈঠক শাহের

El Nino Effect in Monsoon: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কৃষি মন্ত্রককে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কম বৃষ্টি-প্রবণ এলাকায় কোন ফসল চাষ করা উচিত, সে বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে কম জল লাগে, এমন মিলেট বা শ্রীঅন্ন, ডাল এবং পশুখাদ্য ফসল চাষে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

El Nino Effect-Drought Risk: ১৯০১ সালের পর অন্যতম শুষ্ক জুন দেখল ভারত, El Nino কি এবার খরা আনবে? তড়িঘড়ি বৈঠক শাহের
প্রতীকী চিত্র।Image Credit source: Chatgpt

|

Jul 04, 2026 | 10:31 AM

নয়া দিল্লি: সতর্কবার্তা আগেই ছিল। এল নিনোর (El Nino) ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়তে চলেছে এবার। ইতিমধ্যেই তা টের পাওয়া যাচ্ছে। দেশে বৃষ্টির ঘাটতি (Rain Deficit) ক্রমশ বাড়ছে। জুলাই মাসেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিরপূর্বাভাস দিয়েছে মৌসম ভবন (IMD)। এভাবেই যদি ঘাটতি বাড়ে, তবে খরা দেখা দেবে দেশজুড়ে? এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য খরা মোকাবিলায় শুক্রবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বৈঠকে তিনি সমস্ত মন্ত্রককে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “এল নিনোর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর কেন্দ্রীয় সরকার ক্রমাগত নজর রাখছে। রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

১২৫ বছরে সবথেকে কম বৃষ্টি-

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯০১ সাল থেকে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর এ বছরের জুন মাস ছিল সবচেয়ে শুষ্ক জুনগুলির মধ্যে অন্যতম। জুনে দেশে মোট ৯৯.৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির ঘাটতি দেখা গিয়েছে মধ্য ভারতে, যেখানে ঘাটতি ৫০ শতাংশেরও বেশি।

কৃষকদের জন্য বিশেষ নির্দেশ-

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কৃষি মন্ত্রককে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কম বৃষ্টি-প্রবণ এলাকায় কোন ফসল চাষ করা উচিত, সে বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে কম জল লাগে, এমন মিলেট বা শ্রীঅন্ন, ডাল এবং পশুখাদ্য ফসল চাষে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি, যাতে দুর্বল বর্ষার প্রভাব কিছুটা কমানো যায়। কৃষকদের চাষ করে লাভ হয়।

জলাধার ও বিদ্যুৎ সরবরাহে নজর-

বৈঠকে জলসম্পদ মন্ত্রককে দেশের বিভিন্ন জলাধারের জলস্তরের ওপর কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ মন্ত্রককে পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

খাদ্য মজুত নিয়ে আশ্বাস-

বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, দেশে প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জুলাইয়েও কম বৃষ্টির পূর্বাভাস-

মৌসম ভবন (IMD) জানিয়েছে, জুলাই মাসেও দেশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ফসল রোপণ,  জল সঞ্চয় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে জল সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অসম ও অরুণাচলে কেন্দ্রীয় দল পাঠানোর নির্দেশ-

বর্ষা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অসম ও অরুণাচল প্রদেশে সাম্প্রতিক বন্যা, হড়পা বান এবং ভূমিধসে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের জন্য কেন্দ্রীয়  দল (IMCT) দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেন অমিত শাহ। এই দল ঘটনাস্থলে গিয়ে রাস্তা, সেতু, কৃষিজমি ও বসবাস এলাকার ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হবে।

Follow Us