
লখনউ : মাত্র কয়েক ঘণ্টার ঝড়-বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড উত্তর প্রদেশ (Uttar Pradesh Storm)। এখনও পর্যন্ত এই দুর্যোগে মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের। সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে উত্তর প্রদেশের ভাদোহি। রাস্তায় গাছ উপড়ে গিয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গিয়ে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন হয়েছে একাধিক এলাকা। বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিঘার পর বিঘা জমি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখনও উদ্ধার কাজ চলছে। ফলে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহত হয়েছেন অনেকে। ঝড়-বৃষ্টির (Uttar Pradesh Thunder Storm) একাধিক ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, টিনের চালের সঙ্গে ডিগবাজি খেতে খেতে উড়ে যাচ্ছে মানুষ। কিন্তু, এটা কেমন ঝড়, কোনও সাইক্লোন নাকি টর্নেডো? নাকি সাধারণ কোনও ঝড়? আর সাধারণ ঝড় হলেও তাতে এত মানুষের মৃত্যু কি হতে পারে? বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক
উত্তর প্রদেশে যে ঝড় হয়েছে তা বাংলার কালবৈশাখীর মতোই। তবে, ঘণ্টায় ঝড়ের গতিবেগ অনেক বেশি ছিল। যদিও আবহাওয়া দফতরের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে, আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনেকটা জায়গা ধরে বর্জ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়েছিল। আর তার থেকেই ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে উত্তর প্রদেশের একাধিক জেলায়।
ভূ-বিজ্ঞাণীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মে মাসে উত্তর ভারতের তাপমাত্রা সাধারণত প্রত্যেকবারই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। সেক্ষেত্রে, ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকা গরম বাতাস দ্রুত উপরে ওঠে। যাকে বলা হয় পরিচালন। এই প্রক্রিয়ায় আশেপাশে থাকা শীতল ও আর্দ্রতাপূর্ণ বাতাস টেনে আনে। এর ফলে কিউমুলোনিম্বাস নামে পরিচিত বর্জ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়। এর ফলে প্রবল ঝড়, বর্জ্র-বিদ্যুত-সহ বৃষ্টি, এমনকী শিলাবৃষ্টিও হয়।
আইআইটিএম পুনের বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, এই ধরনের ঝড় ‘আঁধি’ নামে পরিচিত। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশের বেশ কিছু জায়গায় ঘণ্টায় ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হয়েছে। এই ধরনের দুর্যোগ পরিস্থিতি আগেও তৈরি হয়েছে। বিশেষত মে মাসে উত্তর ভারতে এই ধরনের আঁধি দেখা যায়।