Uttar Pradesh: ৭ ঘণ্টা চিতায় পড়ে মায়ের দেহ, ৪ বিঘে জমি নিয়ে শ্মশানেই খেয়োখেয়ি ৩ মেয়ের

Uttar Pradesh: রবিবার বিকেলে বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় ৯৮ বছরের পুষ্প দেবীর। দাহ করার জন্য তাঁর মরদেহ আনা হয় মথুরার গোবিন্দ নগর এলাকায় অবস্থিত বিড়লা মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে। শ্মশানে পৌঁছনোর পর, তাঁর তিন মেয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে।

Uttar Pradesh: ৭ ঘণ্টা চিতায় পড়ে মায়ের দেহ, ৪ বিঘে জমি নিয়ে শ্মশানেই খেয়োখেয়ি ৩ মেয়ের
প্রতীকী ছবিImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: অমর্ত্য লাহিড়ী

Jan 15, 2024 | 8:48 PM

লখনউ: চিতার উপর পড়ে রয়েছে মায়ের দেহ। তার সামনেই মায়ের সম্পত্তির ভাগ নিয়ে তীব্র বাক-বিতন্ডায় জড়ালেন তাঁর মেয়েরা। অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, শ্মশানেই আনা হল স্ট্যাম্প পেপার। মায়ের শেষকৃত্য করার আগে ভাগ হল তাঁর সম্পত্তি। আর এই সব করতে করতে কেটে গেল সাত-সাতটি ঘণ্টা। অবশেষে, সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ মেটার পরই, মৃতা মায়ের কথা মনে পড়ে মেয়েদের। সাত ঘণ্টা পর মায়ের দেহ দাহ করেন মেয়েরা। মর্মান্তিক এবং লজ্জাজনক এই ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (১৪ জানুয়ারি), উত্তর প্রদেশের মথুরায়।

রবিবার বিকেলে বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয় ৯৮ বছরের পুষ্প দেবীর। দাহ করার জন্য তাঁর মরদেহ আনা হয় মথুরার গোবিন্দ নগর এলাকায় অবস্থিত বিড়লা মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে। শ্মশানে পৌঁছনোর পর, তাঁর তিন মেয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। জানা গিয়েছে, পুষ্প দেবীর স্বামী গিরিরাজ প্রসাদের আগেই মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের কোনও ছেলে নেই, তিন মেয়ে আছে। মৃত্যুর আগে তিন মেয়ের বাড়িতে পালা করে থাকতেন পুষ্প দেবী। মৃত্যুর সময় তিনি তাঁর এক মেয়ে মিথিলার সঙ্গে মথুরার আনন্দপুরীতে ছিলেন।

মৃত্যুর পর তাঁর দেহ আনা হয় বিড়লা মন্দিরের কাছে শ্মশানে। কিছুক্ষণেরপ মধ্যে সেখনে উপস্থিত হন পুষ্প দেবীর বাকি দুই মেয়ে শশী ও সুনিতাও। দুজনেই শ্মশানে এসে দাবি করেন, তাঁদের মা মিথিলার নামে চার বিঘা জমি লিখে দিয়ে গিয়েছেন। ওই জমির ভাগ তাঁদেরও চাই। এই নিয়ে তিন বোনের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে যায়, যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ। পুলিশকে মিথিলা জানান, ওই চার বিঘা জমির মধ্যে দেড় বিঘা জমি তিনি ইতিমধ্যেই বিক্রি করে দিয়েছে। এখন মাত্র আড়াই বিঘা জমি পড়ে আছে।

শেষ পর্যন্ত পুলিশের উপস্থিতিতে ঠিক হয়, ওই আড়াই বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা জমি দেওয়া হবে বড় মেয়ে শশীকে। বাকি দেড় বিঘা জমি সুনিতা ও মিথিলার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। তবে, মুখের কথায় কেউই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। এরপর, আত্মীয়-স্বজনরা স্ট্যাম্প পেপার নিয়ে এসে, তিনজনকে দিয়ে সই করিয়ে চুক্তি করিয়ে নেন। এত কিছু করতে গিয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। এই এতটা সময় চিতার উপরই পড়ে ছিল পুষ্পা দেবীর নিথর দেহ। শেষ পর্যন্ত মেয়েদের উপস্থিতিতে পুষ্পদেবীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তবে, মেয়েদের এই আচরণের পর তাঁর আত্মা কি আদৌ সান্তি পাবে? প্রশ্ন উঠছে নেট দুনিয়ায়।

Follow Us