India unemployment rate: ভারতের বেকারত্বের হার কোন সত্যিটা আপনাকে জানায় না?

India Youth Unemployment Rate: ভারতের বেকারত্বের হারে তাঁদের হিসাব রাখা হয় না, যাঁরা সক্রিয়ভাবে চাকরি খোঁজার চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছেন। আজ 'YOUR INDIA' কলামে সন্তোষ নায়ার NEET সংক্রান্ত পরিসংখ্যান, তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং বেকারত্বের প্রচলিত হিসাব কেন কাজ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে ছিটকে পড়া সমস্ত মানুষের বাস্তব ছবিটা তুলে ধরতে পারে না, তা বিশ্লেষণ করেছেন।

India unemployment rate: ভারতের বেকারত্বের হার কোন সত্যিটা আপনাকে জানায় না?
বেকারত্বের হার থেকে কারা হারিয়ে যান?Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Oct 12, 2026 | 3:30 PM

নয়াদিল্লি: গত বছর চাকরির জন্য আবেদন করা বন্ধ করে দেন পঁচিশ-ছাব্বিশ বছরের এক যুবক। চাকরি পেয়ে গিয়েছেন বলে নয়। টানা দু’বছর প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত চাকরি খোঁজার চেষ্টাটাই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। আজ তাঁকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি বেকার কি না, সরকারি হিসাব অনুযায়ী উত্তর হবে—না।

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও ভারত-সহ বিশ্বের প্রায় সর্বত্র বেকারত্ব মাপার পদ্ধতিটাই এমন। বেকারত্বের হার হিসাব করার সময় শুধুমাত্র শ্রমশক্তির অন্তর্ভুক্ত মানুষদেরই ধরা হয়। অর্থাৎ, যাঁরা কাজ করছেন অথবা সক্রিয়ভাবে কাজ খুঁজছেন, তাঁরাই এই হিসাবের মধ্যে পড়েন। কোনও কারণে কেউ চাকরি খোঁজা বন্ধ করে দিলেই তিনি বেকারত্বের পরিসংখ্যান থেকে নীরবে হারিয়ে যান। তাঁকে কর্মরত হিসেবেও ধরা হয় না, আবার বেকার হিসেবেও গণনা করা হয় না। পরিসংখ্যানের খাতায় যেন তাঁর কোনও অস্তিত্বই থাকে না।

এই কারণেই ভারতের বেকারত্বের হার যখন তুলনামূলকভাবে কম, এক অঙ্কের সংখ্যা হিসেবে সামনে আসে, তখন তা অনেক সময় বাস্তব ছবির সঙ্গে মেলে না। নিজের পরিবারে, আশপাশের এলাকায় কিংবা প্রতিবেশীদের মধ্যে মানুষ যে পরিস্থিতি দেখেন, সরকারি পরিসংখ্যান যেন তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে না।

বেকারত্বের হার থেকে কারা হারিয়ে যান?

এমন একটি পৃথক পরিমাপক রয়েছে, যা এই আড়ালে থেকে যাওয়া বাস্তবতার অনেকটাই তুলে ধরে। অথচ সেটি সম্পর্কে আরও বেশি মানুষের জানা প্রয়োজন। এর নাম ‘NEET’। অর্থাৎ, Not in Employment, Education or Training—যে তরুণ-তরুণীরা কর্মরত নন, পড়াশোনা করছেন না এবং কোনও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) হিসাব অনুযায়ী, ভারতের মোট তরুণ প্রজন্মের প্রায় এক-চতুর্থাংশ, অর্থাৎ বছরভেদে প্রায় ২৪ থেকে ২৬ শতাংশ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা পড়াশোনা করছেন না। কাজও করছেন না। কোনও প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন না। চাকরি সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে সাধারণত যে পরিচিত বিভাগগুলির কথা উঠে আসে, তাঁরা তার কোনওটির মধ্যেই পড়েন না।

এই একটি সংখ্যাই শুধুমাত্র বেকারত্বের হারের তুলনায় অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ছবি তুলে ধরে। কারণ, এর সঙ্গে কেউ সক্রিয়ভাবে চাকরি খুঁজছেন কি না, তার কোনও সম্পর্ক নেই। বরং, একজন তরুণ জীবনের এই পর্যায়ে সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী তিনটি কাজের মধ্যে অন্তত একটি করছেন কি না, সেটাই দেখা হয়। আর হিসাব বলছে, প্রতি চার জন তরুণের মধ্যে প্রায় এক জনের ক্ষেত্রেই এই তিনটির কোনওটিই সত্যি নয়।

ভারতের NEET-র হার তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে কী জানায়?

এই পরিসংখ্যানের মধ্যেও লিঙ্গভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ ফারাক রয়েছে, যা অন্তত সংক্ষেপে উল্লেখ করা প্রয়োজন। ভারতের তরুণীদের মধ্যে NEET-র হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে, তরুণদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ১০ শতাংশ। ব্যবধান এতটাই বেশি যে বিষয়টি নিয়ে আলাদা করে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া দরকার। এই ধারাবাহিক লেখায় পরবর্তী কোনও পর্বে সেই প্রসঙ্গে ফিরে আসা হবে। আপাতত শুধু এটুকু মনে রাখা প্রয়োজন, ভারতের তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সংকট সকলকে সমানভাবে প্রভাবিত করছে না।

একটু ভাবুন, সাধারণ কোনও পরিবারের মধ্যে NEET-র অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বাস্তব চিত্রটা ঠিক কেমন হতে পারে।

এক তরুণী স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেছেন। কিন্তু এখন তাঁকে বিয়ের আগের সময়টুকু বাড়ির কাজে সাহায্য করেই কাটাতে হচ্ছে। এক যুবক তিন বছর ধরে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসেছেন। প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত পরিবারের অনুষ্ঠানে সেই পরীক্ষার কথা তোলাও বন্ধ করে দিয়েছেন। আবার এমন কোনও স্নাতকও রয়েছেন, যিনি নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না। শেষ কবে চাকরির চেষ্টা করেছিলেন, মাসের পর মাস কেটে যাওয়ায় সেই হিসাব রাখাও বন্ধ করে দিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমে সাধারণত যেভাবে বেকারত্বের কথা বলা হয়, সেই অর্থে এই মানুষগুলির কাউকেই বেকার হিসেবে দেখা যায় না। অথচ তাঁদের কাউকেই অর্থপূর্ণভাবে কর্মরত বলাও যায় না। তাঁরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন, যা বর্ণনা করার জন্য ভারতের বেকারত্বের মূল পরিসংখ্যানগুলি আদতে তৈরি হয়নি। অথচ প্রতিদিন দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী এই বাস্তবতার মধ্যেই জীবন কাটাচ্ছেন।

বেকারত্বের হার কমলেই যে পুরো ছবিটা বদলে গিয়েছে, তা নয়-

অর্থনীতি সংক্রান্ত খবর পড়ার সময় নাগরিকদের কাছে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বেকারত্বের হার কমে যাওয়া মানেই যে সব ক্ষেত্রে সুসংবাদ, তা নয়। কখনও সত্যিই আরও বেশি মানুষ কাজ পেতে শুরু করেন। কিন্তু কখনও এমনও হয়, নিরাশ হয়ে আরও বেশি মানুষ চাকরি খোঁজার চেষ্টা ছেড়ে দেন। তাঁরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন বলে নয়, বরং চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আশা হারিয়েছেন বলে বেকারত্বের হিসাব থেকে বাদ পড়েন। একই শিরোনামের আড়ালে তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বাস্তবতা লুকিয়ে থাকে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে হতাশ হয়ে পড়তে হবে, কিংবা দেশে কোনও উন্নতিই হয়নি বলে ধরে নিতে হবে। গত কয়েক বছরে ভারতের NEET-র হার বাস্তবিকই কমেছে। ২০১৮ সালে এই হার ৩০ শতাংশের বেশি ছিল। বর্তমানে তা কমে ২০ শতাংশের মাঝামাঝি পর্যায়ে এসেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি পরিমাপযোগ্য উন্নতি।

কিন্তু দেশের তরুণ প্রজন্মের এক-চতুর্থাংশ এখনও শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং প্রশিক্ষণ—এই তিনটি ক্ষেত্রেরই বাইরে রয়েছেন। বিষয়টিকে সামান্য কোনও তথ্য হিসেবে উপেক্ষা করা যায় না। বরং, ভারতের কর্মসংস্থানের সমস্যার কেন্দ্রীয় বাস্তবতাগুলির মধ্যে এটিও একটি। অথচ সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে সচরাচর এই ছবিটা উঠে আসে না।

তাই পরের বার যখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভারতের বেকারত্বের হার ঘোষণা করতে শুনবেন, তখন তার পরেই আরও একটি প্রশ্ন করুন। একটু অন্যভাবে, একটু গভীরে গিয়ে।

প্রশ্নটা শুধু এই নয় যে, কত জন মানুষ বেকার। বরং, কত জন মানুষকে পরিসংখ্যানের হিসাব থেকেই নীরবে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে?

সূত্র: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)—ভারতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা তরুণ প্রজন্মের (NEET) হিসাব, ২০১৮–২০২৪; বিশ্ব ব্যাঙ্ক—ভারতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা তরুণদের অনুপাত সংক্রান্ত তথ্য; পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি সমীক্ষা (PLFS), পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক—শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের পরিমাপ পদ্ধতি।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us