India Union of States: রাজ্যগুলির মতামত ছাড়াই কোন অধিকার বলে সীমানা বদলাতে পারে সংসদ? ভারত কেন ‘ইউনিয়ন অব স্টেটস’? জেনে নিন সবটা

Parliament’s power to create states: কেন কোনও রাজ্যের সম্মতি ছাড়াই সংসদ নতুন রাজ্য তৈরি করতে, তার সীমানা বদলাতে বা একাধিক রাজ্যকে একত্র করতে পারে? কেন সংবিধান ভারতকে ‘রাজ্যগুলির ইউনিয়ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে? ‘ইউনিয়ন’ শব্দটি দিয়ে ড. বি আর আম্বেদকর ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছিলেন? এর ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে? লিখেছেন সন্তোষ নায়ার।

India Union of States: রাজ্যগুলির মতামত ছাড়াই কোন অধিকার বলে সীমানা বদলাতে পারে সংসদ? ভারত কেন ইউনিয়ন অব স্টেটস? জেনে নিন সবটা
পড়ুন বিশেষ এই প্রতিবেদনImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Sep 22, 2026 | 5:52 PM

নয়াদিল্লি: ২০১৪ সালে অন্ধ্র প্রদেশ ভাগ হয়ে দুটি রাজ্য তৈরি হয়। ভারতের ২৯তম রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তেলঙ্গানা। নিজস্ব রাজধানী, সরকার এবং বিধানসভা নিয়ে আলাদা রাজ্য হিসেবে যাত্রা শুরু করে তেলঙ্গানা। সংসদ আইন পাশ করে। বদলে যায় রাজ্যের সীমানা। কয়েক দশক ধরে যে রাজ্যটি অখণ্ড ছিল, সেটিই কার্যত আর এক থাকল না।

এর জন্য প্রভাবিত রাজ্যগুলির মধ্যে কোনও গণভোটের প্রয়োজন হয়নি। রাজ্য বিধানসভাগুলির সর্বসম্মত অনুমোদনও জরুরি ছিল না। সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংসদই ভারতের মানচিত্রের অভ্যন্তরীণ সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করেছে।

ভারতীয় সংবিধান কেন ভারতকে ‘ইউনিয়ন অব স্টেটস’ বলে?

শুনতে বিষয়টি হয়তো এমন মনে হতে পারে, যেন এমনটা আইনত সম্ভবই নয়। কিন্তু এর উত্তর রয়েছে সংবিধানের একেবারে প্রথম লাইনেই। সেখানে বলা হয়েছে, “India, that is Bharat, shall be a Union of States”—অর্থাৎ, “ইন্ডিয়া, অর্থাৎ ভারত হবে রাজ্যগুলির একটি ইউনিয়ন।” ফেডারেশন নয়, বলা হয়েছে ইউনিয়ন।

এই দুটি শব্দের পার্থক্য কোনও অনুবাদজনিত বিষয় ছিল না। গণপরিষদে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। আর খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. বি আর আম্বেদকর ব্যাখ্যা করেছিলেন, কেন ‘ইউনিয়ন’ শব্দটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল।

ফেডারেশন আর ইউনিয়নের মধ্যে পার্থক্য কী?

ক্লাসিক অর্থে একটি ফেডারেশন তৈরি হয় যখন আগে থেকে স্বাধীন ও সার্বভৌম কয়েকটি রাষ্ট্র স্বেচ্ছায় একটি ব্যবস্থার অংশ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৭৮৭ সালে আমেরিকার ১৩টি উপনিবেশের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছিল। ফেডারেশন যেহেতু স্বাধীন পক্ষগুলির মধ্যে একটি চুক্তির ভিত্তিতে তৈরি হয়, সেই যুক্তি অনুযায়ী ওই পক্ষগুলির পরে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অধিকারও থাকতে পারে। ১৮৬১ সালে আমেরিকার দক্ষিণের রাজ্যগুলি এমন দাবিই করেছিল। শেষ পর্যন্ত সেই প্রশ্নের মীমাংসা হয়েছিল আমেরিকার গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে।

আম্বেদকর এই ইতিহাস সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন। গণপরিষদে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, ভারতের সংবিধান প্রণেতারা এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনাই রাখতে চাননি। যুদ্ধ করে নয়, বরং সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই সেই প্রশ্নের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

আম্বেদকরের যুক্তি ছিল, ভারতের রাজ্যগুলি আমেরিকার উপনিবেশগুলির মতো কোনও ‘ইউনিয়ন’-এ যোগ দেয়নি। কোনও রাজ্যই এমন একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ ছিল না, যারা প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সঙ্গে সমান অবস্থানে দাঁড়িয়ে কোনও চুক্তির মাধ্যমে একটি নতুন রাষ্ট্র গঠন করেছিল।

বরং ভারতের বর্তমান রাজ্যগুলির ভূখণ্ড মূলত ছিল ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশ এবং দেশীয় রাজ্য বা প্রিন্সলি স্টেট। সেগুলিকে একত্রিত করে একটি দেশ হিসেবে ভারত গড়ে উঠেছে। স্বাধীন রাষ্ট্রগুলি নিজেদের মধ্যে কোনও চুক্তি করে ভারতীয় ইউনিয়ন তৈরি করেনি।

তাই আম্বেদকরের যুক্তি ছিল, যেহেতু সমান সার্বভৌম পক্ষগুলির মধ্যে কোনও মূল চুক্তিই ছিল না, তাই পরবর্তীকালে দেশের কোনও অংশের সেই ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অধিকারও থাকতে পারে না। এই কারণেই ভারত একটি ‘ইউনিয়ন’ এবং সেই ইউনিয়ন অবিচ্ছেদ্য।

সংসদ কি ভারতের নতুন রাজ্য তৈরি বা রাজ্যের সীমানা বদলাতে পারে?

সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে আরও সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রায়ই বলেন—আমেরিকা তৈরি হয়েছিল ‘indestructible states’-এর একটি ‘destructible union’ হিসেবে। অর্থাৎ, তাত্ত্বিকভাবে ফেডারেল ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে, কিন্তু কোনও একটি রাজ্যের সীমানা তার সম্মতি ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার সহজে বদলে দিতে পারে না।

ভারত ঠিক তার বিপরীত কাঠামো তৈরি করেছে—‘indestructible Union of destructible states’। অর্থাৎ, কোনও একটি রাজ্য বা একাধিক রাজ্য মিলে আইনত গোটা ভারতীয় ইউনিয়নকে ভেঙে দিতে পারে না। কিন্তু পৃথক রাজ্যকে সংসদ ভাগ করতে পারে, একাধিক রাজ্যকে একত্র করতে পারে, রাজ্যের নাম বদলাতে পারে কিংবা তার সীমানা পরিবর্তন করতে পারে।

২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ ভাগ করে তেলঙ্গানা তৈরির ক্ষেত্রে যেমন হয়েছে, তেমনই ১৯৫৬ সালে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের সময়ও ভারতের অভ্যন্তরীণ মানচিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

কেন এই ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ?

এটি নিছক কোনও সাংবিধানিক খুঁটিনাটি নয়। এই ব্যবস্থার কারণেই ভারত দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করতে পেরেছে। বারবার অভ্যন্তরীণ সীমানা পরিবর্তন করতে পেরেছে। এবং একবিংশ শতাব্দীতেও নতুন নতুন রাজ্য তৈরি করতে পেরেছে। এই পরিবর্তনগুলির কোনওটিই এমন সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেনি, যাতে প্রশ্ন ওঠে—দেশ হিসেবে ভারত আদৌ টিকে থাকবে কি না।

আইনের চোখে রাজ্যগুলি এমন কোনও সমান অংশীদার নয়, যারা শুরুতেই একটি চুক্তির মাধ্যমে ইউনিয়ন তৈরি করেছিল এবং যাদের সঙ্গে প্রতিটি পরিবর্তনের আগে সেই চুক্তি নতুন করে আলোচনা করতে হবে। বরং রাজ্যের সীমানা ও কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষমতা ইউনিয়নের সাংবিধানিক ব্যবস্থার মধ্যেই রাখা হয়েছে।

‘Union of States’ হলে রাজ্যগুলির স্বায়ত্তশাসনের কী হবে?

অবশ্যই এই ক্ষমতার সঙ্গে বাস্তব রাজনৈতিক টানাপোড়েনও রয়েছে। কোনও রাজ্য সরকারের সীমানা সংসদ বদলে দিতে পারে, কিংবা কোনও বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদাও পরবর্তীকালে পরিবর্তিত হতে পারে—এই বিষয়গুলি কেন্দ্র ও রাজ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে।

কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ঠিক কতটা ক্ষমতা কার হাতে থাকা উচিত, সেই বিতর্ক ভারতীয় রাজনীতিতে এখনও রয়েছে। তবে ‘ইউনিয়ন’ শব্দটি একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছিল—কোনও রাজ্যের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার অধিকার নেই। কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে প্রতিদিনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার সঠিক ভারসাম্য কোথায় থাকবে, সেই প্রশ্নের উত্তর ‘ইউনিয়ন’ শব্দটি দেয়নি।

৭৫ বছর পরও একই সাংবিধানিক কাঠামো-

দেশভাগ, ৫০০-রও বেশি দেশীয় রাজ্যের সংযুক্তিকরণ, ভাষাভিত্তিক আন্দোলন, বিভিন্ন বিদ্রোহ এবং নতুন রাজ্য তৈরির দাবি—সবকিছুর মধ্য দিয়েই এই সাংবিধানিক কাঠামো টিকে রয়েছে। প্রতিবারই দেশের অভ্যন্তরীণ সীমানা বদলেছে। কিন্তু ভারত একটি দেশ হিসেবে টিকে থাকার অধিকার নিয়েই প্রশ্ন ওঠেনি।

তাই ভবিষ্যতে যখনই কোনও নতুন রাজ্য তৈরির প্রস্তাব উঠবে, কিংবা কোনও পুরনো রাজ্যের সীমানা বদলানোর কথা হবে, তখন মনে রাখা দরকার—এটি ভারতীয় ইউনিয়নের জন্য কোনও হুমকি নয়। বরং ১৯৪৯ সালে সংবিধান প্রণেতারা যে ‘ইউনিয়ন’ শব্দটি সচেতনভাবে বেছে নিয়েছিলেন, তার মধ্যেই এই ক্ষমতা শুরু থেকেই রাখা হয়েছিল।

সূত্র: ভারতের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১; গণপরিষদের বিতর্ক, ৪ নভেম্বর ১৯৪৮ (ড. বি আর আম্বেদকর); ConstitutionofIndia.net-এর “Indian Framers Deliberately Chose ‘Union of States’”; LiveLaw-এর “Know the Constitution: Union and Its Territory, Articles 1 to 4”; সুপ্রিম কোর্টের Babulal Parate v. State of Bombay মামলা।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us