
নয়াদিল্লি: বিংশ শতাব্দীতে অহিংসার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক তিনি। ২ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন। আর তাঁর জন্মদিনেই পালিত হয় আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস। অথচ নোবেল শান্তি পুরস্কার পাননি মহাত্মা গান্ধী। যদিও একাধিকবার তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে। পরবর্তীকালে অনেকেরই মনে হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরই সবচেয়ে বেশি যোগ্যতা ছিল। কিন্তু কখনও পুরস্কার পাননি তিনি। কেন?
মহাত্মা গান্ধীর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে—নরওয়ের নোবেল কমিটির দৃষ্টিভঙ্গি কি খুবই সীমাবদ্ধ ছিল? ইউরোপের বাইরের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামকে কি কমিটির সদস্যরা যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারেননি? নাকি নরওয়ের কমিটির সদস্যরা আশঙ্কা করেছিলেন, মহাত্মা গান্ধীকে এমন একটি পুরস্কার দিলে তাঁদের নিজেদের দেশ ও ব্রিটেনের সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে?
একাধিকবার মহাত্মা গান্ধী নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। শেষবার ১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে, হত্যার মাত্র কয়েক দিন আগে। পরবর্তীকালে নোবেল কমিটির সদস্যরাই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে তাঁকে পুরস্কার না দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক ছিল। তবে গান্ধীকে কেন পুরস্কার দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে যে নানা জল্পনা রয়েছে, নোবেল কমিটি কখনও সেগুলির কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি।
গান্ধী জয়ন্তীতে বার্তা নোবেল কর্তৃপক্ষের?
আজ দেশজুড়ে পালিত হয়েছে গান্ধী জয়ন্তী। বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস পালিত হয়েছে। আর এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মহাত্মা গান্ধীর নোবেল না পাওয়া নিয়ে বার্তা দিল নোবেল কর্তৃপক্ষ। “এমন অনেক কারণ আছে, যার জন্য আমি মরতে প্রস্তুত। কিন্তু এমন কোনও কারণ নেই, যার জন্য আমি হত্যা করতে প্রস্তুত।” সোশ্যাল মিডিয়ায় গান্ধীজির এই কোট তুলে ধরে পোস্টে নোবেল কর্তৃপক্ষ লিখেছে, ‘গান্ধী মোট ১২ বার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। এর মধ্যে শেষ মনোনয়নটি দেওয়া হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি তাঁর হত্যার মাত্র কয়েক দিন আগে।’
এরপরই গান্ধীজিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার কারণ উল্লেখ করেছে নোবেল কর্তৃপক্ষ। সেখানে টেনে এনেছে দলাই লামার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কথাও। সোশ্য়াল মিডিয়ার পোস্টে নোবেল কর্তৃপক্ষ লিখেছে, ‘মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার দেওয়া যায় না। তবে গান্ধীকে পুরস্কার না দেওয়ার বিষয়টি পরবর্তী সময়ে নোবেল কমিটির সদস্যরা প্রকাশ্যেই দুঃখজনক বলে স্বীকার করেছেন। ১৯৮৯ সালে দলাই লামাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সময় কমিটির চেয়ারম্যান বলেছিলেন, এই পুরস্কারটি ছিল “আংশিকভাবে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা”।’