
কলকাতা: পাঁচটি ইংরাজি ‘শব্দবন্ধ’- আর তার ওপরেই ভিত্তি করে দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য গড়তে তৎপর নতুন সরকার। কোন পাঁচটি শব্দের শুভেন্দু-টিমের আদর্শের বুনিয়াদ? নতুন সরকারের একাধিক পদক্ষেপে বিরোধীদের একাংশ রাস্তায় নামলেও কেন এক চুলও বিচলিত নয় শুভেন্দু-টিম? তাঁরা ঠিক কোন লক্ষ্যকে বুনিয়াদ করে এগিয়ে চলেছেন? সবটাই TV9 বাংলা কনক্লেভে এসে স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
TV9 বাংলা কনক্লেভে রাজ্যের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের নীতি এবং বিরোধী শিবিরের নানা জল্পনার কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের আদর্শগত ভাবধারা থেকে দল এক চুলও সরবে না।
আদর্শে অনড়: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিচারধারার সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই আপস করা হবে না। তাঁর কথায়, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের আইডোলজিক্যাল বিচারধারায় কোনও রকমের সমঝোতা এই দল করে না।”
বিচলিত নয় সরকার:
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা তাড়াহুড়ো করছেন, নানা মন্তব্য করছেন বা হুটহাট রাস্তায় নামছেন—তারা বিচলিত হলেও ভারতীয় জনতা পার্টি পরিচালিত দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার এই শক্তিশালী সরকার বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়।”
অর্জুনের লক্ষ্যভেদ:
বিরোধীদের অনেকেই সরকারের একাধিক নীতি পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করছেন। কিন্তু একটা রাজ্যকে দুর্নীতিমুক্ত করতে যে সরকারের চিন্তাভাবনা ও লক্ষ্য একেবারেই স্পষ্ট, তিনি তা আরও একবার এই কনক্লেভে দাঁড়িয়ে মনে করিয়ে দিলেন। আর সে প্রসঙ্গেই টানলেন মহাকাব্যের কথা। বললেন, “মহাভারতের অর্জুনের পাখির চোখের মতো লক্ষ্য স্থির আমাদের। ভারতীয় জনতা পার্টি পরিচালিত দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসা এই শক্তিশালী সরকার বিচলিত নয়।”
দলের মূল চালিকাশক্তি
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ইংরাজিতে কিছু শব্দ রয়েছে, সেই শব্দগুলোই আমাদের মূল শক্তি ও হাতিয়ার। কমিটমেন্ট, ডেডিকেশন, সিনসিয়ারিটি, ট্রান্সপারেন্সি ও জিরো টলারেন্স।” অর্থাৎ মানুষকে যে অঙ্গীকার দিয়ে তাঁরা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তা পূরণ করা, ডেডিকেশন অর্থাৎ রাজ্যবাসীর সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করা, কাজের প্রতি আন্তরিকতা অর্থাৎ সিনসিয়ারিটি তাঁরা বজায় রাখবেন। আর সব থেকে বড় কথা, দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য গড়তে ‘ট্রান্সপারেন্সি’ অর্থাৎ স্বচ্ছতা ও অপরাধী-দুর্নীতিবাজদের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে বুনিয়াদ করেই এগোতে চাইছে সরকার, সেকথা আরও একবার এদিন স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।