Abhishek Banerjee: ‘ধন্যবাদ মাই লর্ড, নীরব দর্শক থাকার জন্য’, হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট নিয়েই এবার প্রশ্ন তুললেন অভিষেক

Abhishek Banerjee Post: মধ্য রাতেই তিনি আবার পোস্ট করে লেখেন যে রাত দুটোয় বিজেপির দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে হা্মলা চালিয়েছে, তাও আবার কলকাতা পুলিশের চোখের সামনে। কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টকে আক্রমণ করে অভিষেক লেখেন, "এই গোটা ঘটনায় নীরব দর্শক হয়ে থাকার জন্য ধন্যবাদ।"

Abhishek Banerjee: ধন্যবাদ মাই লর্ড, নীরব দর্শক থাকার জন্য, হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট নিয়েই এবার প্রশ্ন তুললেন অভিষেক
হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিষেক।Image Credit source: TV9 বাংলা

|

Nov 07, 2026 | 11:12 AM

কলকাতা: জন্মদিনের রাতে বাড়ির বাইরে তীব্র উত্তেজনা-অশান্তি। এবার সরাসরি বিচারব্যবস্থাকেই আক্রমণ করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুক্রবার রাতে তাঁর বাড়ির বাইরে যে অশান্তি, ধস্তাধস্তি হয়, সেই ঘটনা তুলে ধরেই সরাসরি কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) ও সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-কে আক্রমণ করলেন অভিষেক।

গতকাল সকালেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুটি ভিডিয়ো পোস্ট করে দাবি করেছিলেন যে তাঁর বাড়ি ও অফিস বিগত কিছুদিন ধরে রেইকি করা হচ্ছে। তারা ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের প্রশ্ন করলে, তারা নিজেদের পুলিশ বলে দাবি করেন। পোস্টেই অভিষেক প্রশ্ন তুলেছিলেন যে একজন সাংসদের উপরে নজরদারি কেন চালানো হচ্ছে? কে এই চরবৃত্তির অনুমতি দিয়েছে? তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুলিশকে ট্যাগ করে এই ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপের দাবি করেন।

এই ঘটনার পরই, শুক্রবার মধ্যরাতে অভিষেকের জন্মদিন পালনের জন্য তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা যখন উপস্থিত হয়েছিলেন, তখন অভিষেককে উদ্দেশ্য করে চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়। অভিষেকের দাবি, যারা স্লোগান দিয়েছিল, ব্যানার ছিড়েছিল, তারা বিজেপির কর্মী সমর্থক। দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা, ধস্তাধস্তিও হয়। অভিষেক নিজেও পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।

এই ঘটনার পর মধ্য রাতেই তিনি আবার পোস্ট করে লেখেন যে রাত দুটোয় বিজেপির দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে হা্মলা চালিয়েছে, তাও আবার কলকাতা পুলিশের চোখের সামনে। কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টকে আক্রমণ করে অভিষেক লেখেন, “এই গোটা ঘটনায় নীরব দর্শক হয়ে থাকার জন্য ধন্যবাদ।”

পরে অভিষেক সেই আক্রমণের ভিডিয়োও পোস্ট করেন। লেখেন, “সংসদের একজন নির্বাচিত সদস্যের সঙ্গে যদি এই ঘটনা ঘটে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের দুর্দশা বুঝুন। বিগত ছয় মাসে এটা সপ্তমবার আমার প্রাণনাশের চেষ্টা। তারপরও কোনও পুলিশি পদক্ষেপ নেই, কোনও বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ নেই। দুষ্কৃতীরা রাজ্যে তাণ্ডব চালাচ্ছে কারণ বিচার বিভাগ চোখ বন্ধ করে রেখেছে। ধন্যবাদ মাই লর্ড, নীরব দর্শক থাকার জন্য।”

প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার নানা ঘটনায় বিচারব্যবস্থার উপরে প্রশ্ন তুলেছেন, বিচার ব্যবস্থাকে আক্রমণ করেছেন অভিষেক। ২০২২ সালে হলদিয়ায় শ্রমিক সভায় অভিষেক বলেছিলেন, “বিচারব্যবস্থার এক-দু’জন এমন আছেন, যাঁরা সম্পূর্ণ যোগসাজশ করে কাজ করছেন, তল্পিবাহক হিসেবে”।

২০২৩ সালে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) তৎকালীন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থাকে (Rajshekhar Matha)-কেও আক্রমণ করেছিলেন সাংসদ। বলেছিলেন, “হাইকোর্টের জাস্টিস রাজাশেখর মান্থার জাজমেন্ট… এমন জাজমেন্ট দিচ্ছেন, শুভেন্দু আগামী দিনে অপকর্ম করলে ব্য়বস্থা নেওয়া যাবে না। সেই রাজাশেখর মান্থাই জাজমেন্ট দিয়ে বিজেপির গুন্ডাবাহিনীকে প্রোটেকশন দিয়ে রেখেছে।”

অর্থাৎ বিচারবিভাগকে আক্রমণ করা অভিষেকের কাছে নতুন নয়। নিজের জন্মদিনের মধ্য রাতের সেলিব্রেশনেও অশান্তি, সংঘর্ষের ঘটনায় একসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টকে আক্রমণ করলেন অভিষেক।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us