Abhishek Banerjee: অভিষেকের ‘বাহন’ কী? খোঁচা ঋতব্রতর, কুণালের ‘বার্তা’ নিয়েও শোরগোল

Abhishek Banerjee Chartered Flight Controversy: অভিষেককে খোঁচা দিয়ে ঋতব্রত বলেন, "এতবড় পরাজয়। কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। কর্মীদের মামলার খরচ চালাতে এমনও বিধায়ক রয়েছেন, যিনি নিজের সোনা বন্ধক রেখেছেন। একটা পয়সাও দল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগেও চার্টার্ড ফ্লাইটে গিয়েছেন। এবারও গেলেন। অবাক হওয়ার কিছু নেই। ওঁর বাহন চার্টার্ড ফ্লাইট। সেই বাহনে চেপেছেন। আমি তো এতটুকু অবাক হচ্ছি না। কারণ, ওঁর ঔদ্ধত্য এতটুকু কমেনি।"

Abhishek Banerjee: অভিষেকের বাহন কী? খোঁচা ঋতব্রতর, কুণালের বার্তা নিয়েও শোরগোল
কী বললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ?Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jun 19, 2026 | 7:33 PM

কলকাতা: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠকের জন্য দিল্লি গিয়েছেন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি যাওয়ার পথে তাঁর ‘বাহন’ কী ছিল? তা নিয়েই এবার তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডকে খোঁচা দিলেন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়। শুধু ঋতব্রত নয়, দলের খরচে চার্টার্ড ফ্লাইটে অভিষেক দিল্লি গেলে, তিনি কোনওমতেই সমর্থন করেন না বলে জানিয়ে দিলেন কুণাল ঘোষও।

এদিন দিল্লি গিয়েছেন অভিষেক। সূত্রের খবর, চার্টার্ড ফ্লাইটেই দিল্লিতে রওনা দেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। এর আগে গত ৬ জুনও চার্টার্ড ফ্লাইটেই দিল্লি গিয়েছিলেন তিনি। তখন প্রশ্ন উঠেছিল। আর এদিন অভিষেক দিল্লি রওনা দেওয়ার পরই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

কী বললেন কুণাল ঘোষ?

মমতার হাত ছাড়ার জন্য প্রতিদিন বিক্ষুব্ধ সাংসদ-বিধায়কদের কটাক্ষ করছেন কুণাল। তিনি মমতার সঙ্গে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য়, দলের অন্দরে ‘ভুল’ দেখলেই তিনি সরব হবেন। সেই কুণালই এদিন স্পষ্ট করে দিলেন, দলের টাকায় অভিষেক চার্টার্ড ফ্লাইটে গেলে তিনি সমর্থন করেন না। তাঁর কথায়, “যাত্রীবাহী সাধারণ বিমান, চার্টার্ড ফ্লাইট কিংবা বিশেষ বিমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি গিয়েছেন কি না আমি বলতে পারব না। এই বিষয়ে কথা বলার কেউ নই। কিন্তু, পার্টির খরচা করে কেউ যদি বিমান ভাড়া করে গিয়ে থাকে, তাহলে আমি সেটা কোনওমতে সমর্থন করছি না।”

এখানেই না থেমে তিনি বলেন, “এত বিমান আছে রুটে। আমি জানি না, বিমানসংস্থাগুলির যে সাধারণ যাত্রীবাহী বিমান রয়েছে, তাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছেন কি না। যদি তাতে যান, তাহলে কারও কোনও নাক গলানোর অধিকার নেই। আবার অন্য কেউ পরিচিত যদি চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি যান এবং অভিষেককে সঙ্গে যেতে বলেন, তাতেও কোনও অপরাধ নেই। কেউ চেনা যদি তাঁর বিমান ব্যবহার করতে দেন, তাতেও অসুবিধা নেই। কিন্তু, দলের এই অবস্থায় পার্টির খরচা করে কেউ যদি চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি যান, সেটা কোনওমতেই সমর্থন করি না।”

কী বললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়?

কুণাল যখন একথা বলছেন, তখন সরাসরি অভিষেককে বিঁধলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “এটার মধ্যে অবাক হওয়ার কী রয়েছে? উনি তো সাধারণ ফ্লাইটে চড়েন না। আমার তো খেয়াল পড়ছে না, উনি শেষ কবে সাধারণ ফ্লাইটে চড়েছেন। ওনার সঙ্গে চার্টার্ড ফ্লাইটটা সমার্থক। চার্টার্ড ফ্লাইটে দিনে গড়ে দেড় কোটি টাকা লাগে। আজকে গিয়ে কাল যদি ফেরেন, তিন কোটি টাকা খরচ হবে। যদি তিনদিন থাকেন, তবে সাড়ে চার কোটি টাকা। চারদিন থাকলে ৬ কোটি টাকা। এটা দিল্লি যাওয়ার খরচ।”

এরপরই তিনি বলেন, “বাগডোগরার খরচ প্রতিদিন ৭০ লক্ষ টাকার মতো। আমার একটা অনুষ্ঠানের কথা মনে আছে। হাসিমারা পর্যন্ত চার্টার্ড ফ্লাইট। হাসিমার থেকে মাঝেরডাবরি চা বাগান গাড়িতে ১০ মিনিটের মতো। সেটাও আবার চপার। এই চার্টার্ড ফ্লাইট, চপার হয়তো উনি মনে করেন, এটা স্ট্যাটাস সিম্বলের জন্য জরুরি। কিন্তু, একজন সাংসদ যে পরিমাণ বিজনেস ক্লাসের টিকিট পান, তা শেষ করা যায় না। গোটা বিজনেস ক্লাস ভাড়া করে নিলেও কম পয়সায় হয়ে যায়। কিন্তু, ওই যে পার্টির টাকা। এটা তাঁর ব্যক্তিগত টাকা নয় বলে আমার ধারণা। যা হিসাবপত্র পাওয়া যায়, এই চার্টার্ড ফ্লাইটের জন্য পার্টির তহবিল থেকে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, সবাই জানেন।”

অভিষেককে খোঁচা দিয়ে ঋতব্রত বলেন, “এতবড় পরাজয়। কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। কর্মীদের মামলার খরচ চালাতে এমনও বিধায়ক রয়েছেন, যিনি নিজের সোনা বন্ধক রেখেছেন। একটা পয়সাও দল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগেও চার্টার্ড ফ্লাইটে গিয়েছেন। এবারও গেলেন। অবাক হওয়ার কিছু নেই। ওঁর বাহন চার্টার্ড ফ্লাইট। সেই বাহনে চেপেছেন। আমি তো এতটুকু অবাক হচ্ছি না। কারণ, ওঁর ঔদ্ধত্য এতটুকু কমেনি।”

এই নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “জলসাগর সিনেমার ছবি বিশ্বাসকে মনে রয়েছে? তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা ছিল আগ্রা থেকে বাঈজি এনে নাচ করাবে। সেই চার্টার্ড ফ্লাইট আর যে কদিন আছে চড়ুক। আর যে টাকা আছে, তা যদি ফ্রিজ হয়ে যায়, আগামিদিনে সাইকেলও জুটবে না।”

কী বললেন অভিষেক?

তাঁর ‘বাহন’ নিয়ে কটাক্ষের জবাব দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, “যাঁরা বলছেন আমি কীসে আসছি, কীসে যাচ্ছি, কোথায় নামছি, তাঁরা যদি লিখিত দিয়ে দেয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইকোনমিকস ক্লাসে যাবে। আমার লিগাল ওপিনিয়ন নিয়ে এটা করা। কুণাল ঘোষ আমার সহকর্মী, সে যদি আমার বিরুদ্ধে বলে, আমি তার বিরুদ্ধে বলব না।”

Follow Us