
কলকাতা: বছর তিনেক আগে কয়লা পাচার মামলায় প্রথম এসেছিল সুমিত রায়ের নাম। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের (Abhishek Banerjee) আপ্তসহায়ক তিনি। শনিবার সকালে অভিষেকের বাড়ির তালা ভেঙে এই সুমিত রায়ের খোঁজেই যায় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিষেকের বাড়িতেই সুমিত রায়ের বাড়িতেই পাওয়া গিয়েছিল ওই ব্যক্তির টাওয়ার লোকেশন। তারপর থেকে দিনভর জায়গায় জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। বাদ গেল না চিনার পার্কের পানশালাও।
সুমিত রায়কে তাঁর নিজের বাড়িতে ও শ্বশুরবাড়িতে খোঁজার পরও পাওয়া যায়নি। পরে চিনার পার্কের বাড়িতেও যায় পুলিশ। জানা যায়, দেড় থেকে দু বছর আগে ওই পানশালা তৈরি হয়। জানা যাচ্ছে, এই পানশালার মালিকের নাম সুস্মিতা রায়। তিনি সুমিত রায়ের স্ত্রী। মাঝেমধ্যে তিনি ওই পানশালায় যেতেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে আপাতত ওই পানশালা বন্ধ।
আশপাশের দোকানে প্রশ্ন করে জানা গেল, গত ৩-৪ দিন ধরে বন্ধ আছে ওই পানশালা। পাশের দোকানে কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, রেনোভেশনের কথা বলে বন্ধ রাখা হয়েছে ওই পানশালা।
এদিকে, শ্রীরামপুরের বিবেকানন্দ সরণিতে সুমিতের শ্বশুরবাড়িতেও দেখা মিলল না তাঁর। জানা যায়, সুমিতের আসা-যাওয়ায় লেগেই থাকত সেখানে। নির্বাচনের পরেও বেশ কয়েকবার তিনি গিয়েছেন সেই শ্বশুরবাড়িতে। তবে গত ২-১ দিনে সুমিত সেখানে যায়নি বলে দাবি করেন তাঁর শাশুড়ি।
আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছে অভিষেকের এই আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সেই মামলাতেই শালবনী থানার পুলিশ তল্লাশি চালাতে যায় অভিষেকের বাড়িতে। অপর একটি সূত্রের খবর, জমি কেলেঙ্কারিতে নাম রয়েছে সুমিতের। মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জমি কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। ২০২৩-এ কয়লা পাচার মামলাতেও নাম জড়ায় সুমিতের।