
কলকাতা: তাঁর বাবা সন্তোষমোহন দেব ছিলেন অসমের কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা। তাঁরও রাজনীতিতে হাতেখড়ি কংগ্রেসের হাত ধরে। এরপর তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্য়সভার সাংসদ হন। তবে বাংলায় পালাবদলের পরই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। গতকাল যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তাঁকে বাংলায় আসন্ন রাজ্যসভার নির্বাচনে প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির। আর বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়ার পরই পুরনো দল তৃণমূলকে তোপ দাগলেন সুস্মিতা দেব। টিভি৯ বাংলায় সাক্ষাৎকারে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণও জানালেন।
কী বললেন সুস্মিতা দেব?
টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তৃণমূলকে নিশানা করে সুস্মিতা দেব বলেন, “৪ মে-র পর তৃণমূল যেভাবে ভেঙে গেল, যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে , তা অবাক করার মতো। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের এক পক্ষ অন্য পক্ষকে বলছে, ধর্ষক। তাহলে ধর্ষককে টিকিট কে দিয়েছিল?”
ফলতায় পুনর্নির্বাচনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রচারে না যাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুললেন সুস্মিতা। তিনি বলেন, “ফলতায় যিনি তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন, তিনি আদালতে গিয়ে বললেন, আমাকে রক্ষাকবচ দিন, আমি লড়তে চাই। কোর্ট তাঁকে রক্ষাকবচ দিল। সেই পরিস্থিতিতে যাঁরা বললেন, আমরা জমিদারির কাছে মাথা নত করব না, তাঁরা কেন ফলতায় প্রচার করলেন না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন ফলতায় প্রচারে গেলেন না? মমতাদি তো বলেন, আমি সব আসনে প্রার্থী।”
তৃণমূলের ২০ জন সাংসদের নতুন দলে যোগদান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূলের দাবি, ওই সাংসদরা পদত্যাগ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন। এই নিয়ে সুস্মিতা বলেন, “তৃণমূল বলছে, কুড়িজন সাংসদ পদত্যাগ করুন এবং উপনির্বাচন হোক। ওই সাংসদরা পদত্যাগ করলে উপনির্বাচন হলে তৃণমূল প্রচার করবে তো? ফলতার মতো হবে না তো? এটার আগে উত্তর দিক।”
দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করে তিনি বলেন, “যদি দুর্নীতি না হয়ে থাকে তাহলে সুমিত রায় (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক) পালিয়ে বেড়াচ্ছে কেন ? তৃণমূল তো বলে ইডি সিবিআই মিথ্যা মামলা দেয়। যদি দুর্নীতি না করে, তাহলে ভয় পাচ্ছেন কেন ? সুমিত পালিয়ে গেল কেন?”
‘হিমন্ত, শুভেন্দুর আন্ডারে কাজ করব’-
বিজেপিতে যোগ দিয়ে সুস্মিতা স্পষ্ট করে দিলেন, তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অধিকারীর নেতৃত্বে কাজ করবেন। তাঁর কথায়, “আমি হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে কাজ করব। আমি যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যাই, তাঁদের লিডার মেনে চলব। তাঁদের সামাল দেওয়ার মতো এতবড় নেতা আমি হইনি। ওঁদের সামনে আমি মাথা নত করেই রাজনীতি করব।”
‘বাবার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি’-
তাঁর বাবা কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। তিনি ভিন্ন মতাদর্শ বিশ্বাসী বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠছে। এই তিনি সুস্মিতা বলেন, “আমি যা করেছি, আমার বাবার আদর্শ মেনেই করেছি। আমি অনেক তথ্য পেয়েছি। আমি অনেক কিছু জানি। এগুলো প্রমাণ না হওয়ার আগে কিছু বলব না।” এরপরই তিনি বলেন, “রাজনৈতিক মতাদর্শ বদলানো যাবে না, এরকম কোনও নিয়ম রয়েছে? বিজেপির মতাদর্শ কী, এটা আমাকে শিক্ষা দিয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল। সত্যটা জানতে হলে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে জানতে হবে। বিশ্বের ইতিহাসে এমন কোনও দল আছে যাদের সবাই পছন্দ করে?”