
কলকাতা: মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুরে গেটম্যানের ‘গাফিলতিতে’ পুলকারে ট্রেনের ধাক্কার পর হুঁশ ফিরল রেলের। নন ইন্টারলকিং সিগন্যাল গেটগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিল। পূর্ব রেল ডিভিশনের অন্তর্গত সবক’টি ক্রসিং লেভেল গেট খতিয়ে দেখবে বিশেষ দল। পাশাপাশি, খতিয়ে দেখা হবে গেটগুলির নিয়ন্ত্রণ যে গেটম্যানদের হাতে, তাঁদের কাজকর্ম এবং শারীরিক অবস্থাও। সাত দিনের মধ্যে এই বিশেষ দল গোটা অবস্থা খতিয়ে দেখে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে।
পূর্ব রেল ডিভিশনের অন্তর্গত অংশে ৯০৬টি স্টেশনের মধ্যে ৮৪২টি ইন্টারলকিং ব্যবস্থার আওতায় থাকলেও এখনও ৬৪টি স্টেশন নন-ইন্টারলক অবস্থায় রয়েছে। এই বিশেষ দল ওই ৬৪টি স্টেশনের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। নন-ইন্টারলক রেলগেট ( এখানে রেলগেট খোলার বা বন্ধ করার কাজটি সম্পূর্ণ ম্যানুয়ালি বা হাত দিয়ে করা হয়) ও স্টেশনগুলিতে চলবে বিশেষ অভিযান। ওই রেলগেটগুলিতে পরিচালন পদ্ধতি এবং কর্মীদের পারস্পরিক সমন্বয় পর্যালোচনা করা হবে।
ইতিমধ্যে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার প্রিন্সিপাল চিফ সেফটি অফিসারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন। মূলত যে গেটগুলি নন ইন্টারলকিং বা ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে, সেই গেটগুলি নিয়ে এবার বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করছে পূর্ব রেল। একইসঙ্গে, গেটম্যানদের নিয়ে বারবার যে অভিযোগ আসছে, সেই বিষয়ে খতিয়ে দেখতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। ক্রসিং লেভেল গেটে গেটম্যানদের বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। আদৌ সেই অভিযোগগুলির কতটা সত্যতা রয়েছে, অভিযোগস্থলে গিয়ে ক্যামেরার ফুটেজ যেমন দেখা হবে, তেমনই কথা বলা হবে গেটম্যানদের সঙ্গে।
মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুরের ঘটনায় স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে গেটম্যানের সমন্বয়ের অভাব যে অন্যতম কারণ ঘটনার পিছনে, তা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। কেন এই ধরনের সমন্বয়ের অভাব হচ্ছে, সেই বিষয়টিও এই বিশেষ দল খতিয়ে দেখবে বলে সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, গোবিন্দপুরে গেটম্যানের ‘গাফিলতিতে’ ট্রেনের ধাক্কায় চার স্কুল পড়ুয়া ও এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। পরে গেটম্যান দাবি করেন, প্রতিদিন ট্রেনের নম্বর পাঠানোর পাশাপাশি ট্রেন ছাড়ার কথাও তাঁকে জানাতেন স্টেশন মাস্টার। কিন্তু, ওইদিন ট্রেনের নম্বর পাঠালেও ট্রেন ছাড়ার কথা তাঁকে জানাননি।