
কলকাতা: অপেক্ষার অবসান। রাজ্যে চালু হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)। রাজ্যের মহিলারা মাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক ভাতা পাবেন। গতকাল, বুধবারই প্রকাশিত হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ফর্ম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) জানিয়েছেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার জন্য সকলকেই ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করতে হবে। এরপরই হিড়িক পড়ে গিয়েছে ফর্ম পূরণের।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যারা লক্ষ্মীর ভান্ডার (Laxmir Bhandar) পেতেন, তারাও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন। নতুন আবেদনকারীরাও সুবিধা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার। তবে সকলকেই এর জন্য পূরণ করতে হবে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম।
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বেরতেই তা ডাউনলোড করার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। সেই ফর্ম নিয়ে চলছে জেরক্স। এতে মালামাল হয়ে যাচ্ছেন জেরক্স ও প্রিন্ট আউট করানোর দোকানের মালিকরা। এমনিতেই এখন প্রতি পাতা জেরক্স করাতে এক টাকা এবং প্রিন্ট আউট করাতে তিন থেকে পাঁচ টাকা করে নেওয়া হয়। ১২ পাতা জেরক্স করাতে বা প্রিন্ট আউট করাতে খরচ হচ্ছে অনেকটাই। অন্তত ১২ টাকা থেকে ৬০ টাকা খরচ হচ্ছে। আবার অনেকের পরিবারে একাধিক মহিলা সদস্য রয়েছেন, তারা আগে লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন। তারা সবাই এবার অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করবেন। ফলে গড়ে খরচটা ১০০-২০০ টাকা পার করে যাচ্ছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার ঘোষণা হওয়ার পর থেকে খুশি জেরক্স-প্রিন্ট আউট দোকানের মালিকরা। দোকানদাররা বলছেন, “আজ সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড়। সবাই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিতে আসছেন। ফর্ম পূরণে যদি ভুল হয়ে যায়, এই ভয়ে অনেকেই আবার ফর্মের দুটো কপি করাচ্ছেন। ফলে ব্যবসাটা ভালোই হচ্ছে“। আগামী এক মাস অন্তত এমনই ভিড় থাকবে বলেই আশা করছেন দোকানদাররা।
বাকি সময়ে এই দোকানগুলিতে খুব একটা বেশি ব্যবসা হয় না। স্কুল-কলেজ পড়ুয়ারাই মূলত আসে জেরক্স করাতে। তা থেকেই আয় হয়। তবে এই ধরনের সরকারি প্রকল্পের যখনই ঘোষণা হয়, তখন সবাই ভিড় করেন ফর্ম জেরক্স বা প্রিন্ট করাতে। এর আগে যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, যুবশ্রী সহ একাধিক প্রকল্পের জন্যও জেরক্স-প্রিন্ট করাতে আসতেন সবাই। এখন অন্নপূর্ণার দৌলতে লক্ষ্মী লাভ হচ্ছে। টাকা ঢুকছে ক্যাশবাক্সে।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভাইরাল একাধিক মিম, যেখানে দেখা যাচ্ছে জেরক্স ও প্রিন্ট আউট দোকানের মালিকরা টাকার পাহাড়ের উপরে বসে আছেন।