
কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টে বড় স্বস্তি পেলেন অনুব্রত মণ্ডল। ঋতব্রত তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতির আগাম জামিনের আবেদন সোমবার মঞ্জুর করলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। ২০২১ সালে একটি ইটভাটা লুঠের ঘটনায় এদিন অনুব্রত আগাম জামিন পেলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলবে বলে হাইকোর্ট জানিয়েছে। একইসঙ্গে বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অনুব্রতকে।
ইটভাটা লুঠের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এর আগে আগাম জামিন চেয়ে সিউড়ি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন একসময় বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত ওরফে কেষ্ট। কিন্তু, তাঁর আর্জি খারিজ করে দেয় নিম্ন আদালত। এরপর গত ১৪ জুলাই আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অনুব্রত।
এদিন হাইকোর্টে অনুব্রতর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, ইটভাটা লুঠের ঘটনাটি ২০২১ সালের। আর ২০২৬ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কেষ্টর আইনজীবীর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাতেই এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এই মামলায় অন্য এক অভিযুক্ত ২ দিন আগেই জামিন পেয়েছেন। এদিন অনুব্রতর আগাম জামিন মঞ্জুর করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানান, এতদিন আগের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অভিযোগের তদন্ত হোক। কিন্তু, হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। তাই, অনুব্রতর আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারপতি। তবে একাধিক শর্ত দিয়েছেন। অনুব্রতকে তদন্ত সাহায্য করতে হবে। ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে হবে ঋতব্রত তৃণমূলের বর্তমান বীরভূম জেলা সভাপতিকে। পরে তদন্তের প্রয়োজনে ডাকলে আবার যেতে হবে।
প্রসঙ্গত, বোলপুরের শুভেন্দু মণ্ডল নামে এক ব্যবসায়ী রাজ্যে পালাবদলের পর অভিযোগ দায়ের করেন, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের পর অনুব্রতর নির্দেশ তাঁর ইটভাটায় তাণ্ডব চালানো হয়। ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুঠ করা হয়। সেইসময় পুলিশ অভিযোগ নেয়নি বলে ব্যবসায়ীর অভিযোগ। এখন রাজ্যে পালাবদলের পর পুলিশ তাঁর অভিযোগ নিয়েছে।