
কলকাতা: বছর সাতেক আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ফের তৃণমূলে ফেরেন তাঁরা। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত যখন একের পর এক নেতা ছাড়ছেন, তখন শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও কি ফুলবদলের কথা ভাবছেন? টিভি৯ বাংলায় এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন বৈশাখী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন বৈশাখী ও শোভন। শুভেন্দুকে ‘স্বপ্নের শাসক’ বললেন বৈশাখী।
কী বললেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়?
একটি রক্তদান অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে শোভন-বৈশাখীকে একসঙ্গে দেখতে পাওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। এদিন টিভি৯ বাংলাকে বৈশাখী বললেন, “মঞ্চে তাপস রায় আসবেন। সেটা জানা ছিল। শোভনের সঙ্গে আমার যেদিন থেকে আলাপ, তার চেয়েও আগে থেকে তাপসদার সঙ্গে আলাপ। একদম সজ্জন ব্যক্তি। তাপসদা যখন তৃণমূল ছেড়ে গেলেন, তখন তৃণমূলের মধ্যে যাঁরা দলের বিরুদ্ধে এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন, তার মধ্যে আমি একজন।”
এরপরই বছর সাতেক আগে তাঁদের বিজেপিতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বৈশাখী বলেন, “এখন তৃণমূলে অনেকে দমবন্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু, তৃণমূলে প্রথম যদি কেউ দমবন্ধ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে, সেটা আমি আর শোভন। তৃণমূলে বীতশ্রদ্ধ হয়ে আমরা বিজেপিতে গিয়েছিলাম। বিজেপি আমাদের কাজ করতে বলেছিল। অনেক আশা নিয়ে বিজেপিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু, যারা তৃণমূলের লোক ছিল বিজেপির জামা পরে, তারা ওখানে অতিষ্ঠ করেছে। আমরা বিজেপিকে বিড়ম্বনায় ফেলতে চাইনি। ফলে আমরা সরে আসি।”
তাঁদের বিজেপিতে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বৈশাখী বলেন, “দিদি যখন আবার শোভন এবং আমাকে কাজে লাগাতে চেয়েছেন, ভাবলাম অন্যায়ের এবার শেষ হবে। কিন্তু, তা হয়নি। বরঞ্চ আরও অন্যায় হয়েছে। সে জন্য আজকে যে বিজেপিতে ফিরে যাব, তা নয়। তাছাড়া আজকে বিজেপির কাছে আমার প্রয়োজনীয়তা কী? তখন শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বিজেপির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু, আজ শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখীকে বিজেপির আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কি না, সেটা বিজেপি ভাববে। আমি যেতে চাইলেই বিজেপি নেবে, তা নয়। আবার আমিও বিজেপির দরজায় কড়া নাড়ছি, তা নয়।”
মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা বৈশাখীর-
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে বৈশাখী বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী একটা জিনিস খুব ভালো করছেন। উনি একেবারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। সেখানে উনি কোনও জায়গায় রেয়াত করছেন না। সে ওঁর পক্ষে কথা বলা হোক বা ওঁর বিরুদ্ধে কথা বলা হোক। এখনও পর্যন্ত একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেরকম শাসক আমরা স্বপ্নে দেখি, উনি সেই স্বপ্নের শাসক। উনি সেই স্বপ্নের মুহূ্র্তটা যেন ভেঙে না দেন, সেটাই আমার প্রার্থনা।”
এরপরই তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “সরকার আমাদের। উনি যেই দলের হোক না কেন, শুভেন্দু অধিকারী সবার মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের কাজ ভালো লাগছে। উনি গণতন্ত্রকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন। তাতে যদি আমরা সামিল হতে পারি, ভালো লাগবে। তবে সম্মানের সঙ্গে রাজনীতি করতে পারাটা দরকার। কাজ করার সুযোগ পেলে কেন যাব না।”
শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়
শুভেন্দুর প্রশংসায় শোভন-
বৈশাখীর মতো শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন শোভন। বললেন, “শুভেন্দু আমার চেয়ে বছর চারেকের ছোট। একসঙ্গে কাজ করেছি। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন শুভেন্দু। পৌরসভায় লড়েছেন, বিধায়ক, সাংসদ হয়েছেন। যে বিপুল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, সেখান থেকে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। সরকার ৬০ দিনে যা করেছে তাতে সমালোচনার সুযোগ নেই।” আজ যখন বিজেপি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে বড় পদক্ষেপ করছে, তখন পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে শোভন বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ এর জন্যই বাংলায় থাকতে পারি। তাঁর জন্মভিটে অবহেলা হবে কেন?”