
বারুইপুর: নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠার পরই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফোন করেছিলেন নির্যাতিতার বাবাকে। আর মঙ্গলবার বারুইপুর এসপি অফিসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সাক্ষাতের পর শুভেন্দুর জানান, নির্যাতিতার পরিবার তাঁর উপর আস্থা রেখেছেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে মুখ খুললেন নির্যাতিতার বাবা ও কাকা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছে, টিভি৯ বাংলাকে জানালেন তাঁরা।
কী বললেন নির্যাতিতার বাবা?
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর টিভি৯ বাংলাকে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “দাদার কাছে যে আশা নিয়ে গিয়েছিলাম, দাদা বলেছেন, তোমাদের আশা পূরণ হয়ে যাবে। যে দোষী সে শাস্তি পাক, এটুকুই দাবি নিয়ে আমরা গিয়েছিলাম। দাদা বললেন, ‘তুমি শুধু দেখতে থাকো, আমি কী করতে পারি।’ তাতেই আমরা খুশি হয়ে গিয়েছি। আমরা সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছি। দাদার উপর ভরসা রয়েছে। পুলিশ, প্রশাসনের উপর ভরসা রয়েছে।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। এই নিয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “পুলিশ-প্রশাসন যথেষ্ট সাহায্য করেছে। সারাদিন ছিল। কেউ হয়তো অনেককিছু বলতে পারে। ভালো সাহায্য় করেছে। প্রশাসনের উপর যথেষ্ট ভরসা আছে। আমার সূর্যপুর বাজারে আউটপোস্টের দাবি জানিয়েছি। উনি শুনেছেন। দাদাকে যেটা যেটা বলেছি, উনি না করেননি। যার জন্য আমরা বেশি খুশি হয়েছি। দাদার উপর আস্থা রেখেছি। পুলিশ-প্রশাসনের উপর ভরসা রয়েছে।”
কী বললেন নির্যাতিতার কাকা?
এদিন মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন নির্যাতিতার কাকা। টিভি৯ বাংলাকে তিনি বলেন, “দোষীরা কঠোর থেকে কঠোরতম সাজা পাবেন। আমরা বলার আগেই এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। আমাদের পরিবারের কাছ থেকে জানতে চেয়েছিলেন, অন্য কোনও দাবি আছে কি না। আমরা বলেছি, আমাদের একটাই দাবি, বাংলার আর কোনও মায়ের কোনও যেন এভাবে খালি না হয়। এই ব্যবস্থা আপনাকে করতে হবে। আর বলেছি, সূর্যপুর যেহেতু একটা বড় বাজার, এখানে পুলিশের একটা আউটপোস্ট করতে হবে। সরকারি সিসিটিভি ক্যামেরা যেগুলো রয়েছে, তার বেশিরভাগই অকেজো হয়ে গিয়েছে। সেগুলো সারিয়ে ঠিক করতে হবে।” তিনি আরও জানান, “পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমাদের বলা হয়েছে, তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের কোনও গাফিলতি থাকলে শাস্তি দেওয়া হবে।” প্রসঙ্গত, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে বৈঠকের পর শুভেন্দু বলেছিলেন, “নির্যাতিতার পরিবার আমার উপর আস্থা রেখেছে, এটাই আমার প্রাপ্তি।”