Baruipur Case: পুলিশের ১ শতাংশ গাফিলতি থাকলে কী হবে? বলে দিলেন শুভেন্দু

CM seeks DGP report on police role in Baruipur case: এদিন এসপি অফিসে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরিকাঠামোর কোথায় অভাব? কেন নজরদারি নেই? কেন অভিযোগ করলে পুলিশ সঠিক সময় ব্যবস্থা নিচ্ছে না? এই ধরনের একাধিক প্রশ্নবাণ পুলিশকর্তাদের উদ্দেশে ছুড়ে দেন।

Baruipur Case: পুলিশের ১ শতাংশ গাফিলতি থাকলে কী হবে? বলে দিলেন শুভেন্দু
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jul 07, 2026 | 7:55 PM

কলকাতা: কাউকে রেয়াত করা হবে না। বারুইপুরকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আবার বারুইপুরকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বারুইপুরে পুলিশ সুপারের অফিসে বৈঠকের পর জানিয়ে দিলেন, ডিজিপির কাছ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট চেয়েছেন। পুলিশের ভূমিকায় ১ শতাংশ গাফিলতি থাকলেও রেয়াত করা হবে না।

বারুইপুরে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে এদিন দেখা করতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের অফিসে এদিন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এসপি অফিসে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিকাঠামোর কোথায় অভাব? কেন নজরদারি নেই? কেন অভিযোগ করলে পুলিশ সঠিক সময় ব্যবস্থা নিচ্ছে না? এই ধরনের একাধিক প্রশ্নবাণ পুলিশকর্তাদের উদ্দেশে ছুড়ে দেন।

এছাড়াও সূত্রের খবর, ফাঁড়ির ওসি, বারুইপুর থানার ওসি এবং অতিরিক্ত এসপি, এই তিন আধিকারিককে সাসপেন্ড করতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। হস্তক্ষেপ করেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তিনদিন সময় চান মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে। এই তিনদিনের মধ্যে খোদ ডিজিপি খতিয়ে দেখবেন, মিসিং ডায়েরি থেকে পুরো ঘটনা পর্যন্ত কোথায় কোথায় গাফিলতি ছিল। কার কার গাফিলতির কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটল। আদৌ কারও গাফিলতিতে ঘটনা ঘটেছে কি না, এই ধরনের একাধিক বিষয় রিপোর্ট সহকারে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ডিজিপি তিনদিনের মধ্যে যাবতীয় তথ্য জমা দেবেন।

সূর্যপুর এলাকায় পুলিশের আউটপোস্টের দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিতার পরিবার। যত দ্রুত সম্ভব সূর্যপুর এলাকায় আউটপোস্ট তৈরি করতে নির্দেশে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ধরনের ঘটনা আগামী দিন যাতে না ঘটে, তার জন্য এদিনের বৈঠক থেকেই রাজ্যের অন্য থানাগুলোকে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, ক্ষোভের সঙ্গে তিনি জানান, অতীতে যা হয়েছে, তা কিন্তু এই আমলে হবে না। এই রাজ্যের কোনও মানুষ বিপদে থাকলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মেনে নেবেন না। পুলিশের উপরে কোনও অত্যাচার কিংবা হামলা যেমন তিনি মেনে নেবেন না, তেমনি পুলিশের কারণে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বে কিংবা বারুইপুরের মতো ঘটনা ঘটবে, সেটাও কিন্তু তিনি মেনে নেবেন না।

পুলিশের ভূমিকা যে আতসকাচের তলায় রয়েছে, সেটাও এই দিনের বৈঠক থেকে মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মিসিং ডায়েরি হওয়ার পর গাড়ি না থাকায় খোঁজ করতে যেতে পারেননি ফাঁড়ির পুলিশকর্মীরা। এই যুক্তি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দিতেই রীতিমতো ধমক খান পুলিশ আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী সোজাসাপ্টা বলে দেন, “এই ধরনের অজুহাত আমার কাছে দাঁড় করাবেন না। আমি নতুন প্রশাসনিক কাজ সামলাচ্ছি না। এইসব অজুহাত দিয়ে নিজেদের ভুল ঢাকতে যাবেন না।”

নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে এলাকা উত্তপ্ত হওয়ার পর গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়েও এদিন মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, “গণপিটুনিতে যারা অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কারা কারা এর পেছনে উস্কানি দিয়েছে, কার নির্দেশে এত লোক জড়ো হয়ে গেল, রেললাইনের মতো সরকারি সম্পত্তি কার উস্কানিতে উপড়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, তার বিস্তারিত এবং নিখুঁত তথ্য আমার চাই।”

বৈঠকের পর কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

এদিন পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ডিজিপি-কে ৭২ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। উনি একটা রিপোর্ট দেবেন। রিপোর্ট দেওয়ার পর আমাদের প্রশাসনের তরফে অ্যাকশন নেওয়া হবে। আমাদের কোনও লোকের যদি ১ শতাংশও শিথিলতা থাকে, সেক্ষেত্রেও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।”

Follow Us