
কলকাতা: থ্রেট কালচারে পেরেক পুঁতল সরকার। তিলোত্তমা কাণ্ডে অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র, থ্রেট কালচারে অভিযুক্ত বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্যাথোলজি বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট তথা আরজি কর কাণ্ডে অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র চিকিৎসক বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের সিনিয়র রেসিডেন্সির মেয়াদ অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং ভবিষ্যতে সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করা হয়েছে। আজ, ২৯ মে স্বাস্থ্য ভবন থেকে এই মর্মে একটি কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে সাসপেন্ড থাকা এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখা (ACB)-র তদন্ত, একাধিক এফআইআর এবং নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির পেশ করা রিপোর্টে বিরূপাক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৬ নভেম্বর ২০২২ সালে বিরূপাক্ষ বিশ্বাস ‘বন্ড এসআর’ (সিনিয়র রেসিডেন্ট) হিসাবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। নিয়ম ও চুক্তি অনুযায়ী, এখন তাঁকে ইন্ডেমনিটি বন্ডের শর্ত মেনে প্রতি বছরের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে মোট ২ বছরের ২০ লক্ষ টাকা সরকারি তহবিলে ফেরত দিতে হবে।
বিরূপাক্ষ বিশ্বাস যাতে ভবিষ্যতে আর কখনও কোনও সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে না পারেন, সেই নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ জানিয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকে (WBMC) একটি বিশদ রিপোর্ট পাঠাচ্ছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। আরজি কর-কাণ্ডের পর থেকেই স্বাস্থ্যক্ষেত্রের ‘উত্তরবঙ্গ লবি’ এবং থ্রেট কালচারের অন্যতম পান্ডা হিসেবে নাম জড়িয়েছিল এই চিকিৎসকের। স্বাস্থ্য ভবনের এই নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তার ও চিকিৎসা মহলের একাংশ।
আরজি করের ক্রাইম সিনে দেখা গিয়েছিল বিরূপাক্ষকে। আরজি কর কাণ্ডের পর একাধিক অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। আরজিকরের তৎকালীন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন। এই নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে তিলোত্তমার মা বলেন, “এই বিরূপাক্ষের বিরুদ্ধে প্রথমেই স্লোগান উঠেছিল। ক্রাইম সিনে কেন ছিলেন? দেখতে থাকুন, আরও অনেক নাম সামনে আসবে, ফাইল তো সবে খোলা হয়েছে।”