
কলকাতা: প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে তুলকালাম। বিধানভবনে হাত শিবিরের কর্মীদের মধ্যে তুুমুল হাতাহাতি। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর রেহানা খাতুনের যোগদানের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস কর্মীদের বড় অংশ। দুর্নীতিগ্রস্ত রেহানা খাতুনকে কেন কংগ্রেসে নেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কংগ্রেস কর্মীদের বড় অংশ।
৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলের তৃণমূলে যোগদানের খবর মিলতেই বিধানভবনে ছুটে আসেন হাত শিবিরের পুরনো কর্মীরা। ততক্ষণে রেহানা খাতুনও তাঁদের অনুগামীদের নিয়ে কংগ্রেসে যোগদানের জন্য অপেক্ষারত। সূত্রের খবর, প্রদেশের কংগ্রেস কার্যালয়ে তাঁরা যে ঘরে অপেক্ষা করছিলেন তার বাইরে বিক্ষোভ শুরু করে দেন কংগ্রেস কর্মীরা।
ওই বিক্ষোভের সময়েই রেহানা খাতুনের সঙ্গে যে কর্মীরা এসেছিলেন তাঁদের সঙ্গে রীতিমতো হাতাহাতি শুরু হয়ে যায় কংগ্রেস কর্মীদের। রেহানা খাতুনকে যাতে বিধানভবন থেকে বের করে দেওয়ারও জোরালো দাবি ওঠে।
রেহানার বিরুদ্ধে তীব্র উগরে দিয়ে পুরনো এক কংগ্রেস কর্মী বলেন, “এই মহিলা যদি কংগ্রেসে আসে তাহলে আমাদের মতো মেয়েরা আর কংগ্রেসের হয়ে কাজ করতে পারবে? ও যখন তৃণমূলে ছিল তখনই আমাদের উপর কত জুলুম করেছে। ও যে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমি সেই ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এখন ও যদি আমাদের দলে আসে তাহলে আমরা ঘর থেকে আর বের হতে পারব? আমরা চাই এই বিষয়টা রাহুল গান্ধীর কাছে পৌঁছাক।”
কংগ্রেস সূত্রে খবর, শেষ পর্যন্ত এদিন যোগদান করতে পারেননি রেহানা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার যদিও বলছেন, “দুর্নীতিগ্রস্তরা কংগ্রেসে আসার সাহস পাবে না। আমাদের কর্মীরা দুর্দিনে পতাকা নিয়ে লড়াই করেছেন। এখন জনজোয়ার কংগ্রেসের দিকে। যদি পার্টি মনে করে, কর্মীরা মনে করে রেহানাকে গ্রহণ করা হবে তাহলে ওনাকে গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি আমাদের কর্মীদের যাতে কোনও সম্মানহানি না হয় সেটাও গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।”