
কলকাতা: রাজ্যে দুর্গা পুজোর আবহে সিপিএমের একের পর এক বুক স্টলে ভাঙচুর চলার অভিযোগ ওঠে। একাধিক স্টল থেকে বই ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় সে সব ভিডিয়ো। অভিযোগ ওঠে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। এবার সেই ইস্যুতে মুখ খুললেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়েও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তিনি।
বিমান বসু বলেন, “বিজেপির রাজ্য সভাপতি ওই ঘটনার বিরোধিতা করেছেন। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আসলে নিজেরা বই পড়েন, তাই বিরোধিতা করেছেন।” উল্লেখ্য, স্বপন দাশগুপ্ত ওই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “মাথা নত করে দিয়েছে। এটা কোনওভাবেই আমি মেনে নিতে পারব না। বামেদের সঙ্গে আমাদের একটা নৈতিক বিবাদ আছে। কিন্তু তা বলে বই বিক্রি করতে দেবে না? তারা কারা?” ঘটনার নিন্দা করে শমীক ভট্টাচার্যও বলেছিলেন, বই ছুড়ে ফেলে দেওয়ার মতো কাজ সমর্থন করা যায় না, কল্পনা করাও পাপ।
বিমান বসু আরও বলেন, “বইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা সভ্যতার বিকাশের লক্ষণ নয়। বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করার বিরোধিতা করা সভ্যতার কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত। যাঁরা করেছেন, তাঁরা সামাজিক দিক থেকে অপরাধ করেছেন। বইয়ের উপর যারা আক্রমণ করে, তাদের বই সম্পর্কে জ্ঞান কম আছে। কোনটি ঠিক, কোনটা ভুল, সেটা ব্যাখ্যা করার শক্তি অর্জন করার জন্য বই পড়তেই হয়।”
একটি বুক স্টলে দেখা গিয়েছিল কুণাল ঘোষকে। সে কথা উল্লেখ করে বিমান বসু বলেন, “বিরোধী মতাদর্শের মানুষরাও পড়ে দেখেন বিষয়টি কেমনভাবে লেখা। এটা সভ্যতার অঙ্গ। যারা গিয়েছেন, বই দেখেছেন কিনেছেন, তাঁদের সভ্যতার বিকাশ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান আছে।”