
কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ল আরও। সই জাল সংক্রান্ত মামলায় আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হল অভিষেককে। সিআইডি-র তদন্তে যে অভিষেককে ‘দোষী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয় আদালত। তবে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন বিচারপতি।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই এই বিতর্ক সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূল কংগ্রেসের বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও বেশ কয়েকজন বিধায়কের সই করে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের রেজোলিউশনে ওই সই করা হয়েছিল। সেই সই জাল সম্বলিত রেজোলিউশন বিধানসভায় পাঠানো হয় বলেই অভিযোগ, যে রেজোলিউশনে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই ছিল। সেই মামলার তদন্তভার নেয় সিআইডি।
সই জাল করার অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে দোষী, সিআইডি-র এই তথ্যে প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট নয় আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘মিটিংয়ে অংশ নেওয়া মানেই জাল নথি করিয়েছেন বলা যায় না।’ সিআইডিকে বিচারপতি বলেন, “কেউ হাত বেঁধে দেয়নি তদন্ত করুন, সমস্যা নেই।”
সিআইডি-র তরফে আইনজীবী তথা এ এজি রাজদীপ মজুমদার সওয়াল করেন, ৭০ জন বিধায়ক সই করেছিলেন। এর মধ্যে পাঁচ জন জানিয়েছেন যে সই জাল করা হয়েছে। ৬ মে রেজোলিউশন বুকে কোনও সই করা হয়নি। ১৯ মে সই করা হয়। ৫ জনের সই পরীক্ষার জন্য এফএসএল (FSL)-কে পাঠানো হলে জানা যায় সই জাল হয়েছে।
বিচারপতি কৌশিক চন্দ প্রশ্ন করেন, তদন্ত শেষ করতে কত সময় লাগবে? হতে পারে উনি নথি জাল করেছেন। কিন্তু এতে তাঁর (অভিষেকের) রোল কী?
অভিষেকের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলের জেনারেল সেক্রেটারি অভিষেক। উনি তো বিধায়ক নন। মিটিংয়ে অভিষেক ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কেন দোষী বলা হচ্ছে? জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে শুধুমাত্র রেজোলিউশনটি স্পিকারকে ফরওয়ার্ড করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন আইনজীবী। তিনি আরও জানান, সেদিন নথি চেক করেছিলেন ববি হাকিম।
রাজদীপ মজুমদারে বক্তব্য, তদন্তে জানা গিয়েছে যে ওই মিটিংয়ে অভিষেক অংশ নিয়েছিলেন। একটা সই জাল হলেও এফআইআর সঠিক বলে উল্লেখ করা হয়। ১২০ বি ষড়যন্ত্রের ধারা দেওয়া হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন।