
কলকাতা: সেবাশ্রয় দুর্নীতি মামলায় এখনই অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নয়। নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। সেবাশ্রয় দুর্নীতি-সহ মোট তিনটি মামলায় অভিষেককে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আপাতত ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১৬টি এফআইআর করা হয়েছে। এই এফআইআর-এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। এর আগে ৫টি মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। আজ আরও তিনটি মামলায় রক্ষাকবচ পেলেন। এই তিনটির মধ্যে দু’টি বিষ্ণুপুর থানা ও একটি রবীন্দ্রনগর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। মূলত, জমি দুর্নীতি ও সেবাশ্রয় দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তবে, এই তিনটি মামলাতেও রক্ষাকবচ পেলেন অভিষেক। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট আটটি মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিচারপতি সৌগত ভটাচার্যের এজলাস। মামলার নথি না দেখে অভিষেককে রক্ষাকবচ দেওয়ার তুমুল বিরোধিতা করে রাজ্য। যদিও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বক্তব্য, শুধু এই এজলাস নয়, হাইকোর্টের অন্য এজলাস, এমন কি বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্রও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। গত মে মাস থেকে এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের মামলা শুনতে গিয়ে অন্য মামলায় সময় দেওয়া যাচ্ছে না। তাই ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মামলায় তাঁকে রক্ষা কবচ দেওয়া হল। ৭ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।
উল্লেখ্য, এর আগে সই জাল মামলায় অভিষেকের রক্ষাকবচ বাড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। অভিষেকের আমতলায় দলীয় কার্যালয় ভাঙাতেও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশে চোখের চিকিৎসা করানোর অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত একাধিক শর্ত আরোপ করে সেই নির্দেশও দিয়েছে। কিন্তু, তাতেও জটিলতা তৈরি হয়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকার জন্য বিদেশে যেতে পারছিলেন না অভিষেক। সেই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করেন তিনি। সেই মামলায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে ভর্ৎসনা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। সব ক্ষেত্রেই যখন অনলাইনেই কেওয়াইসি আপডেট হয়, তখন এ ক্ষেত্রে কেন অভিষেককে সশরীরে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে? প্রশ্ন তুলে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বাড়ি গিয়ে কেওয়াইসি আপডেট করার নির্দেশ দিয়েছেন