
কলকাতা: শুক্রবার শ্রীরামপুরে হচ্ছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভা। মিছিল করার আবেদন আগেই খারিজ হয়ে যায়। তবে সভা করার অনুমতি মিলেছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবারই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। সেই শুনানিতে সভা করার জায়গা নিয়ে রাজ্য যে প্রস্তাব দেয়, তাতে রাজি হননি মমতা।
শ্রীরামপুরে মিছিলের বদলে মিটিং করার অনুমতি দেয় হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। সাধারণ মানুষের যাতে সমস্যা না হয়, গাড়ি চলাচলে জন্যে জায়গা রেখে দুপুর ১টা থেকে ৩টের মধ্যে মিটিং শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। লোকসংখ্যাও বেঁধে দেওয়া হয়। আদালত নির্দেশ দেয়, “মিটিং করাকালীন এমন কোনও মন্তব্য করা যাবে না, যার কারণে বিশেষ কোনও গোষ্ঠী মর্মাহত হন।”
শ্রীরামপুরের সভা নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলা উল্লেখ করে রাজ্য। ডিভিশন বেঞ্চে অভিযোগ ডানায় জগন্নাথ মঠ কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, জগন্নাথ মঠ কোনও রাজনৈতিক দলকে তাদের জায়গা ব্যবহার করতে দিতে চায় না। দিল্লি রোডে হলে অসুবিধা কোথায়? প্রশ্ন করেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দিল্লি রোড শ্রীরামপুরের বাইরে।’
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগে বলেন, “আপনার উদ্দেশে সাধারণ জনগণকে সমস্যায় ফেলা নয়।” প্রধান বিচারপতি বলেন, “এমন জায়গায় করুন, যাতে বার্তা যাক, কিন্তু কোনও সমস্যা না হয়।” পরে ফের শুনানি হয় হাইকোর্টে।
ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য জানায়, রবিবার শ্রীরামপুর আদালতের মাঠে সভার অনুমতি দিতে পারে তারা। ৫০০ সমর্থক থাকতে পারবে সেখানে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রস্তাবে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, “স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের হতে দেব না। মনে হচ্ছে যেন, আমাদের কেউ দয়া করছে। আদালত চত্বরে সম্ভব নয়।”
এই শুনানিতেই আই সির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ভোটের আগে আমার বাড়িতে মিষ্টি পাঠিয়ে ফেভার নেওয়ার কথা বলেছিল। পরে পরিবর্তনের পর বদলে যায়।” একথা শুনে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী বলেন, “সভার থেকে আই সি-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চাইছেন মনে হচ্ছে।”
কল্যাণ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই কটা দিন আরও সমর্থকদের গ্রেফতার করা হতে পারে। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী বলেন, “আই সি আরও কাউকে গ্রেফতার করতে পারে। তবে আমরা সেই মামলা দেখছি না। ফলে হস্তক্ষেপ করব না।”
শুক্রবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে দুপুর সাড়ে ১২ টায় ফের এই মামলার শুনানি। সভার বিকল্প স্থান নিয়ে অবস্থান জানাবে রাজ্য। কেন শ্রীরামপুরে হচ্ছে, তৃণমূল কর্মীদের পুলিশি হেনস্থা করার অভিযোগ সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত হলফনামায় নিজেদের বক্তব্য জানাতে পারবে মামলাকারী প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার।