
কলকাতা: জলের ব্যবসা করতেন। পৌর নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে জিতে কাউন্সিলর হন। তারপর কয়েক বছরেরই কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি করেছেন বলে অভিযোগ। বিনু মণ্ডল নামে বিধাননগর পৌরনিগমের প্রাক্তন ওই তৃণমূল কাউন্সিলরের সম্পত্তি নিয়ে ইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে এবার জনস্বার্থ মামলা হল কলকাতা হাইকোর্টে।
বিনু মণ্ডল ধৃত তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বিধাননগর পৌরনিগমের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। এই ওয়ার্ডটি রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার অন্তর্গত। তবে বিনুর দাপট রাজারঘাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকায়ও ছিল বলে অভিযোগ। ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক ছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী অদিতি মুন্সি।
অভিযোগ, ধৃত তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর কায়দায় সম্পত্তি কিনেছেন এবং নির্মাণ বানিয়েছেন বিনু মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী। রাজনীতিতে পা দেওয়ার আগে জলের ব্যবসা করতেন বিনু। অভিযোগ, এখন ওই প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং তাঁর স্ত্রী প্রায় ৩৫টি সম্পত্তির মালিক। কয়েক কোটি টাকার মালিক। রাজারহাট, নিউটাউন, বীরভূমে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। অভিযোগ, এলাকার নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি করেছেন। নিজের নামে অথবা রাজনৈতিক দলের ব্যানারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ হিসাব-বহির্ভূত কালো টাকা লেনদেন করেছেন।
তাঁর এই আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত ইডি করুক, এই আবেদন জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা হল কলকাতা হাইকোর্টে।মামলাকারী আইনজীবী সৈকত দাসের আবেদন, এই আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত করুক ইডি। প্রাক্তন এই তৃণমূল কাউন্সিলরের সঙ্গে আর কোন তৃণমূল নেতাদের যোগ রয়েছে বেআইনি আর্থিক লেনদেনে, তা তদন্ত করে দেখার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই গা ঢাকা দেন বিনু মণ্ডল। তাঁর স্ত্রীরও কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় দেবরাজও গা ঢাকা দিয়েছিলেন। তারপর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এবার বিনু মণ্ডল কবে ধরা পড়েন, সেটাই দেখার।