
কলকাতা: সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের জন্য খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছিল, তাতে বড় স্বস্তি মিলল রাজ্যের। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির শুনানিতে সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়েছে।
সম্প্রতি রাজ্য সরকার হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসাবে মাথা পিছু আগের নির্ধারিত ৫৭ টাকার খাবার বরাদ্দ বাড়িয়ে ১১২ টাকা করার প্রাইস চার্ট ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন এই দর ১ অগস্ট থেকেই কার্যকর করার কথা ছিল।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা দায়ের করে একাধিক সরবরাহকারী সংস্থা। তাদের যুক্তি ছিল, খাবারের মাথা পিছু নতুন বরাদ্দ ও সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নতুন প্রাইস চার্ট জারি করা যায়। মামলাটি শুনে সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন।
সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। এদিনের শুনানিতে বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন করেছে, শেষ কয়েক বছরে রাজ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসের দাম বেড়েছে— সে বিষয়ে দ্বিমত নেই, তবে এই আইনি জটিলতার কারণে সরকার জনস্বার্থে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে তা কীভাবে চলবে? সমস্ত দিক বিবেচনা করে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে বেঞ্চ। ফলে পূর্বঘোষিত ১ আগস্ট থেকেই বর্ধিত খরচে খাবার সরবরাহ করতে রাজ্যের আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
মামলার প্রেক্ষাপট
মামলাটি সরকারি হাসরাতালে ভর্তি রোগীদের রান্না করা খাবার সরবরাহের টেন্ডার নিয়ে। রূপা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সংস্থা ওই টেন্ডারকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করে। ওই সংস্থার বক্তব্য, গত ১০ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল সরকারি হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মূল্য নির্ধারণের জন্য একটি ‘বোর্ড বেসড কমিটি’ গঠন করতে হবে। ওই কমিটি খাবারের রেট চার্ট তৈরি করবে। তারপর সেই রেট চার্টের ভিত্তিতেই নতুন টেন্ডার প্রকাশ করতে হবে।
ওই পুরো বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট আদালতে জমা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজ্য আদালতে কোনও রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগেই নতুন টেন্ডার জারি করে। শুক্রবার সেই টেন্ডারের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে হাই কোর্ট। তার ভিত্তিতেই মামলা।