
কলকাতা: একবার নয়, মমতার জমানায়ট পাঁচবার বাজেট পেশ করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও অর্থ দফতরের মন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশ করেন চন্দ্রিমা। এবার তৃণমূল ছেড়ে আসার পর সেই বাজেট নিয়েই বিস্ফোরক দাবি করলেন নেত্রী।
একগুচ্ছ নেতা-নেত্রী অন্য পথে হেঁটেছেন আগেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ভরসার মুখ চন্দ্রিমাও এবার অন্য শিবিরে। ইস্তফাপত্র দিয়ে সোজা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। মমতা জমানায় একের পর এক বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সাংবাদিক বৈঠক থেকে মিছিল, সব জায়গায় সামনের সারির মুখ হয়ে উঠেছিলেন এই চন্দ্রিমা। সেই নেত্রীর মুখেই এবার বড় অভিযোগ।
শনিবার দলের সব পদে ইস্তফা দেওয়ার পর চন্দ্রিমা দাবি করেছেন, মন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশ করলেও, বাজেট সম্পর্কে নাকি তিনি কিছুই জানতেন না। চন্দ্রিমা বলেন, “আমাকে যেখানে যেভাবে কাজ করতে বলেছে আমি করেছি। আমার সঙ্গে ডিসকাশন করে বাজেট তৈরি হত না। সাধারণ মানুষ যখন বাজেট শুনত, আমি তার কয়েক ঘণ্টা আগেই জানতে পারতাম।”
কে বাজেট তৈরি করতেন? চন্দ্রিমার উত্তর, “আমি জানি না। বলতে পারব না।” তিনি আরও বলেন, “সব কথা তো বলতে পারতাম না। ওথ (শপথ) নিয়েছিলাম গোপনীয়তা বজায় রাখার। সেটা বজায় রাখতে হবে বলে এতদিন কিছু বলিনি।”
অর্থ দফতরের মন্ত্রীই জানতেন না, বাজেটের পাতায় কী আছে। চন্দ্রিমার এই অভিযোগ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। এই প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “রাজ্যের ৮ লক্ষ কোটি টাকার উপর ঋণ রয়েছে। দায় ও (চন্দ্রিমা) এড়িয়ে যেতে পারে না। আর অর্থ দফতরকে যে ক্যাবিনেট স্টেটাসই দেওয়া হয়নি, রাষ্ট্রমন্ত্রীর স্টেটাস ছিল। সেটা কেউ বলছে না। তাই যা হওয়ার তাই হয়েছে।”