
কলকাতা: সাইবার অবরাধ মোকাবিলায় জোর বিজেপি সরকারের। জোর নারী নিরাপত্তাতেও। আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটা থানায় চালু সাইবার হেল্পডেস্ক। শুরু হচ্ছে সাইবার হেল্পলাইন। চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিক বৈঠক থেকে খানিক উদ্বেগের সঙ্গেই বললেন, “সাইবার অপরাধ কার্যত মহামারির আকার ধারণ করেছে। সামাজিক প্রকল্পে যাঁরা ফর্ম ফিলাপ করছেন, অ্যাকাউন্ট নম্বর দিচ্ছেন সেটা জানতে পেরে সেই সমস্ত প্রান্তিক মানুষদের কাছ থেকে, তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে।”
অন্যদিকে আগামীতে সাইবার অপরাধ দমনে যে রাজ্য আলাদা করে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিতে চলেছে তাও এদিন জানান শুভেন্দু। জোরালো সাওয়াল গোল্ডেন আওয়ারেই সমাধানের পক্ষে। বলেন, “বিভিন্ন দফতরে যেমন উচ্চপদের এডিজি, আইজি লেভেলের আধিকারিকরা রয়েছেন তেমনই সাইবারের ক্ষেত্রে এই ধরনের সিনিয়র আধিকারিকদের এক্সক্লুসিভভাবে দিতে চলেছি। তিনি পুরো রাজ্যে সাইবার হেল্পডেস্ক, সাইবার পুলিশ স্টেশন এগুলো করবেন ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে সমণ্বয় রেখে।”
একইসঙ্গে বিশেষ জোর নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও। ৫০০ থানায় চালু মহিলা হেল্প ডেস্ক। চালু দুর্গা স্কোয়াডও। ২১৩টি নতুন মোটরসাইকেল দেওয়া হচ্ছে মহিলা পুলিশদের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্ভয়ার ঘটনা থেকে তিলোত্তমার ঘটনা পর্যন্ত আমরা যে তিক্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি তা মাথায় রেখে আমরা আমাদের রাজ্যের নারী-কন্যাদের সুরক্ষা প্রদান করব। তার জন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে চলবে।”
বড় বার্তা দেন পুলিশের উদ্দেশ্যেও। অপরাধ দমনে আগের সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “কোনও অভিযোগ এলে লুকানোর দরকার নেই। নথিভুক্ত করুন। এফআইআর করুন। ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর যে ধরনের তথ্য বিভিন্ন ক্রাইমের ক্ষেত্রে বিশেষ করে মহিলা ও শিশু সংক্রান্ত অভিযোগের যে সমস্ত তথ্য চায় বিগত দিনে আমাদের সরকার পাঠায়নি। আমরা যেন এবার কোনওভাবে একটা সংখ্যাও কম না পাঠাই! আমরা যদি বুঝতে পারি আমাদের রাজ্য়ে কোন ধরনের রোগ বেশি হচ্ছে তাহলে আমরা সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। সেই ব্যধিকে আড়াল করলে ব্যধি বাড়বে।”
অন্যদিকে অ্যাকশন নেওয়া, পুলিশি তৎপরতা আরও বাড়ানোর পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেন শুভেন্দু। অনেক ক্ষেত্রে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যেখানে পুলিশকে অন দ্য স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুলিশের থাকা উচিত বলেই মত শুভেন্দুর। বলেন, “আমি ডিজিপকে বলেছি ১১২ পরিষেবা আমাদের রাজ্যে চালু করুন। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশে গড়ে ৬ মিনিটে পুলিশ পৌঁছায়। পশ্চিমবঙ্গে এই গড় ৩ ঘণ্টা। আগামী বাজেটে আরও গাড়ি দেওয়া হবে পুলিশ। আগামী ১ বছরের মধ্যে অন্য রাজ্য যদি ৬ মিনিটে পৌঁছায় আমরা ৫ মিনিটে পৌঁছাতে পারব। এটাই আমাদের লক্ষ্য থাকা উচিত।”