
বারাসত: মায়ের পুজোয় মায়ের কোল খালি হয়ে যাবে, এ বোধহয় দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করে না কেউ। ছোট থেকে যার হাত ধরে ধরে প্যান্ডেল দেখানো, প্রথম বছর হাত ছাড়তেই একেবারে ছেড়ে চলে গেল মেয়ে। কেন একবার মেয়েকে বলা হল না ‘আজ আর যাস না…’, এ আফসোস বোধহয় সারাজীবন রয়ে যাবে প্রিয়ার মায়ের।
বাবা-মায়ের হাত ছেড়ে ঠাকুর দেখা মানে বড় হয়ে যাওয়া। প্রিয়ারও এবার পুজো ছিল সেই বড় হয়ে যাওয়ার পুজো, কারণই এবারই প্রথম বাবা-মা ছাড়া, বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন প্রিয়া সমাদ্দার।
গত কয়েকদিনে পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলেন তিনি। তবে সপ্তমীর সন্ধ্যায় তাঁর প্ল্যানিং ছিল কলেজের নতুন বান্ধবীদের সঙ্গে। তাঁদের সঙ্গেই চোরবাগানে গিয়েছিলেন প্রিয়া। ঘটনার কথা শুনে যখন মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন উদ্বিগ্ন বাবা-মা। ততক্ষণে সব শেষ।
মেয়ের মৃত্যু কিছুতেই মানতে পারছেন না প্রিয়ার মা। বারবার কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, “আমার মেয়ের কতটা কষ্ট হয়েছে! আমার মেয়ে তো কষ্ট সহ্য করতে পারে না। একটু আঙুল কেটে গেলেই বলে, মা দেখো ‘আঙুল কেটে গিয়েছে।'” তিনি আরও বলছেন, ভিড়ে ভয় পেতেন প্রিয়া। ভিড় বাস, ভিড় ট্রেনে উঠতে চাইতেন না। আর সেই ভিড়েই হারিয়ে গেল মেয়ে।
আগে দু’দিন বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন মেয়ে। মায়ের আফসোস, “কেন একবার বললাম না, ‘দুদিন তো গিয়েছিস, আজ আর যাস না।’ আমিও বললাম না, ওর বাবাও বলল না।”
শুধু প্রিয়া নন, চোরবাগানের ঘটনায় ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত একাধিক। মেডিক্যাল কলেজ, আরজি কর ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁদের।