
কলকাতা: অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এই সিট গঠন করল রাজ্য সরকার। চোরবাগানে ১৯ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী কে, কোন পরিস্থিতিতে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতেই এই সিট গঠন করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য, স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিনিধিও রয়েছেন এই টিমে।
যথাযথ তদন্তের জন্য কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠনের কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো মঙ্গলবারই প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট।
১. ঘটনাক্রম অর্থাৎ ঠিক কী হয়েছিল, কখন, কীভাবে ভিড় এমন মারাত্মক আকার নিল।
২. বিপর্যয়ের কারণ- অতিরিক্ত ভিড়, খারাপ আবহাওয়া, গেট ম্যানেজমেন্ট, গুজব, কারেন্ট চলে যাওয়া, বেরনোর রাস্তা কম থাকা, এমন কী কী কারণ ছিল, ।
৩. আবহাওয়া- সেদিনের আবহাওয়া রিপোর্ট, বৃষ্টি/বজ্রপাতের প্রভাব।
৪. প্যান্ডেলের পরিকাঠামো: রাস্তা, ব্যারিকেড, সিঁড়ি, গেট, ইমার্জেন্সি এক্সিট ঠিক ছিল কি না, দেখা হবে।
৫. উদ্যোক্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা: পুজো কমিটি, পুলিশ, দমকল, হাসপাতাল, KMC, CESC, PWD কত দ্রুত রেসপন্স করেছে, সেটা দেখা হবে।
৬. প্রমাণ যাচাই: CCTV ফুটেজ, মোবাইল ভিডিয়ো, কল রেকর্ড, মেডিক্যাল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হবে।
৭. অনুমতি ও পরিকল্পনা: ভিড় সামলানোর প্ল্যান, দুর্যোগ মোকাবিলা প্ল্যান, পুলিশ বন্দোবস্ত NDMA-র গাইডলাইন মেনে হয়েছিল কি না।
৮. গাফিলতি: কার গাফিলতি বা কর্তব্যে অবহেলা ছিল, তা খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
৯. ক্ষতিপূরণ: আহত ও নিহতদের পরিবারকে কতটা সাহায্য/ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বা দেওয়া উচিত।
১০. ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা: উত্তর কলকাতার সরু গলিতে বড় পুজোর ভিড় কীভাবে বৈজ্ঞানিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় – Footfall Limit, Entry-Exit Route, CCTV, মাইক, ইভাকুয়েশন প্ল্যান।
SIT-এর মাথায় আছেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। এছাড়াও রয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরের প্রধান সচিব, STF-এর DG, রাজ্য পুলিশের ADG পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র দফতরের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এবং NDRF-এর একজন প্রতিনিধি।
সময়সীমা: SIT-কে ৩ মাসের মধ্যে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সব দফতরকে SIT-কে সব রকম সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। অর্ডারটি সই করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল।