
কলকাতা: বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে এবার কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে নোটিস সিআইডি-র। শুক্রবার মদনের কামারহাটির বাড়িতে গিয়ে তাঁকে নোটিস দেন সিআইডি আধিকারিকরা। তিনি যে নোটিস পেয়েছেন, তা স্বীকার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সঙ্গী মদন। নোটিস পেয়ে কী বলছেন কামারহাটির বিধায়ক?
তৃণমূল বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে পুরোদমে তদন্তে নেমেছে সিআইডি। গতকালই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সিআইডি আধিকারিকরা। অভিষেক একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেননি বলে জানা গিয়েছে। সিআইডি আধিকারিকদের প্রশ্নে মেজাজও হারান।
অভিষেককে নিয়ে চর্চার মধ্যেই মদনকে নোটিস দিল সিআইডি। এই নিয়ে কামারহাটির বিধায়ক বলেন, “আজ সকালে আমাকে একটা নোটিস দেওয়া হয়েছে। আমি নোটিস পেয়েছি। তবে আমায় এখনও তলব করা হয়নি। সিআইডি শুধু জানিয়ে গিয়েছে, আমাকে নোটিস দেওয়া হল।” জানা গিয়েছে, সই জালকাণ্ডে মদনকে তদন্তে সাহায্যের জন্য বলা হয়েছে।
রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতার সঙ্গে ‘হারাধনের’ যে কয়েকজন নেতা রয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম মদন। তৃণমূল সুপ্রিমোর দীর্ঘদিনের সঙ্গী কামারহাটির বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মমতার সঙ্গেই তিনি রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর সিআইডি-র নোটিস পাওয়া নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে এমনিতে তৃণমূলের অন্দরে ডামাডোল বাড়ছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে তৃণমূলের ৬০ বিধায়ক ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠন করেছেন। লোকসভায়ও তৃণমূল সাংসদরা দু’ভাগ হয়ে গিয়েছেন। রাজ্যসভায় একের পর এক সাংসদ ইস্তফা দিচ্ছেন। এরই মধ্যে বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে তদন্তের গতি বাড়িয়েছে সিআইডি। বিধায়কদের সই জাল করে বিধানসভায় জমা দেওয়ার অভিযোগে অভিষেককে একাধিকবার তলব করা হয়েছে। প্রথম তিনবার সিআইডি-র তলবে সাড়া দেননি তিনি। এরপর গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর ভবানীভবনে হাজির হন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড।