
কলকাতা: ভরদুপুরে টানটান উত্তেজনা। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়ির সামনে পৌঁছে গেল সিআইডি টিম। শনিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ ৫-৬ জন আধিকারিকের একটি টিম হাজির হয় ভবানীপুরে ‘শান্তিনিকেতন’ নামে ওই বাড়ির সামনে। প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাঁরা দরজায় ধাক্কা দিলেও, কেউ বাড়ি থেকে বেরোয়নি। পরে এক কর্মী বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে জানান, অভিষেক ও পরিবারের সদস্যরা কেউ বাড়িতে নেই। এরপর অভিষেক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “শান্তিনিকেতন বিল্ডিং-এ থাকি না। ওদের কালীঘাটের বাড়িতে আসতে বলুন।” এরপর সেখানে হাজির হয় সিআইডি টিম।
শনিবারই মৃত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বেলেঘাটায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরিয়ে কালীঘাটের বাড়িতে যান তিনি।
দুপুরে সিআইডি হাজির হয় অভিষেকের শান্তিনিকেতন বাড়িতে। প্রায় ১০ মিনিট ধরে দরজায় ধাক্কা দেওয়ার পর বাড়ির ভিতর থেকে গেটের বাইরে বেরিয়ে আসেন বাড়ির এক কর্মী। ওই কর্মী জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে নেই। অভিষেকের স্ত্রী, সন্তানরাও বাড়িতে নেই বলে জানান তিনি। অভিষেক কোথায় গিয়েছেন জানতে চাইলে ওই কর্মী বলেন, “আমার ধারনার বাইরে। আমরা শুধু কর্মীরা এই বাড়িতে আছি।”
এ কথা শুনে আধিকারিকরা জানান, তাঁরা একটি নোটিস দিতে এসেছেন। তবে ওই কর্মীর হাতে কোনও নোটিস দেননি তাঁরা। পরিবারের সদস্যের জন্য অপেক্ষা করছেন।
কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডি পৌঁছলে বেরিয়ে আসেন কর্মীরা। কিন্তু সিআইডি আধিকারিকরা জানান, কোনও কর্মীর হাতে নয়, নোটিস দেবেন অভিষেকের হাতেই। কর্মীরা বলেন, ‘তাহলে অপেক্ষা করতে হবে।’ এরপর অভিষেক বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে অভিষেক নোটিস গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, “তদন্তকারী সংস্থা নোটিস দিতে এসেছে, আমি সাত বছর ধরে কোথায় থাকি জানে না। আমি নোটিস গ্রহণ করেছি। প্রয়োজন হলে আইনি সাহায্য নেব। প্রয়োজন হলে আমি সহযোগিতা করব।”
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে একটি রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। সেখানে তৃণমূলের ৭০ জন বিধায়কের সই রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন বিধায়কের সইতে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের পুরনো স্বাক্ষরের সঙ্গে এই স্বাক্ষর মেলেন বলেই অভিযোগ উঠেছে। সেই চিঠি দেওয়া হয় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের তরফে। তবে এই রেজোলিউশন জমা পড়ার আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে এই প্রস্তাব নিয়ে একটি চিঠি জমা পড়ে বিধানসভায়।
বিধানসভার সচিবালয়ের তরফ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। প্রাথমিকভাবে রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ ওই অভিযোগের তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।