
কলকাতা: বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী কয়েকদিন ধরে একাধিক জেলায় ঘুরবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রাহুল গান্ধীও ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায়’ বাংলায় আসছেন। সফরসূচি যেমন রয়েছে, তাতে প্রায় কাছাকাছি সময়ে মালদায় থাকছেন মমতা ও রাহুল। সেক্ষেত্রে কি তাঁদের মুখোমুখি দেখা হবে? বা কোনও বৈঠক কি হবে? সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য জানিয়ে দিলেন, ‘এলে আসবেন। আমার কর্মসূচি তো আগে থেকেই ঠিক আছে। যদি আসেন, এক কাপ চা খেয়ে যাবেন।’ শুক্রবার বিকেলে সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে রাজভবনে চা চক্রে যোগ দিতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে সাংবাদিকরা মুখ্যমন্ত্রীকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে, তিনি নিজের বক্তব্য জানিয়ে দেন।
ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম দুই শরিক দল কংগ্রেস ও তৃণমূল। চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে সব অবিজেপি দলগুলি এক ছাতার তলায় এসে তৈরি করেছে বিরোধীদের মহাজোট, ইন্ডিয়া। কিন্তু, আসন সমঝোতার ইস্যু ও বাংলার প্রাদেশিক রাজনীতির সমীকরণ ঘিরে এ রাজ্যে বেশ জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েক দিন আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলায় একাই লড়বে তৃণমূল। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেছিলেন, ‘সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা একা লড়ব। আমাদের সঙ্গে বাংলার ব্যাপারে কোনও সম্পর্ক নেই।’ সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কী সমীকরণ হবে, সেই বিষয়ে ভোটের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে কথাও জানিয়েছিলেন মমতা।
এমনকী রাহুল যে বাংলায় আসছেন, সেকথাও কংগ্রেসের তরফে তাঁকে জানানো হয়নি বলে দাবি করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। এই নিয়েও সেদিন মুখ খুলেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘জোটের শরিক হিসেবে সৌজন্যের খাতিরেও তো জানাতে পারত, দিদি আপনার রাজ্যে যাচ্ছি।’
তৃণমূল সুপ্রিমোর সেদিনের বার্তার পর তড়িঘড়ি বার্তা এসেছিল কংগ্রেসের দিল্লি নেতৃত্বের থেকেও। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশকে নামতে হয়েছিল ড্যামেজ কন্ট্রোলে। বলেছিলেন, ‘মমতাকে ছাড়া ইন্ডিয়া জোট কল্পনাই করা যায় না।’ এসবের মধ্যেই আজ যখন রাজভবনের চা চক্রের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, মালদায় রাহুলের সঙ্গে তাঁর দেখা হবে কি না, তখন তিনি আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন।