
কলকাতা: পার্ক সার্কাসে সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদল করে রাখা হয়েছে গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড। সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাধিক নেতা সরব হয়েছেন। এদিন বিধানসভায় রাস্তার নাম পরিবর্তনের উল্লেখ করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভাতে তারই জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, সোহরাওয়ার্দিদের নাম থাকবে না। একইসঙ্গে রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভায় কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
সোহরাওয়ার্দির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের জন্য কলকাতা পৌরনিগমের প্রশংসা করে টুইট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন বিধানসভার বিরোধী দলনেতার মন্তব্য নিয়ে নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “আমি আপনাকে বলছি, কার নাম কে পরিবর্তন করেছেন, আমার জানা নেই। আমি ধন্যবাদ জানিয়ে টুইট করেছি, কারণ আমিও যখন ৭ পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করি, তখন দেখি সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউ লেখা ছিল। সোহরাওয়ার্দির নাম তো থাকবে না। যদি মনে করেন, ডক্টর এপিজে আব্দুল কালামের মতো কোনও প্রকৃত দেশভক্ত, রাষ্ট্রভক্তকে সম্মান দেওয়া প্রয়োজন রয়েছে, এমন যদি কেউ থাকে, তথ্য দেবেন। মর্যাদা দেব। সোহরাওয়ার্দির নাম থাকবে কেন?”
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনি বললেন, অন্য সোহরাওয়ার্দি। আমি পরে জেনেছি, সাবিনা ইয়াসমিন-সহ অনেকে বলেছেন। আপনি যেমন বলেছেন, তেমনই আপনিও শুনে রাখুন। পাঁচটা গুলি করেছিলেন যে স্বাধীনতা সংগ্রামী, সেই বীণা দাসকে ব্রিটিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নাইট উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই কলকাতাতে এদের মোগল-পাঠানের নাম থাকবে না। দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালির দাঙ্গা আর অত্যাচারী ব্রিটিশ। বিদেশি ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া অন্য কারও নাম রাখার ক্ষেত্রে পাঁচবার ভাবতে হবে।”
রাস্তার নামের জন্য কমিটি গঠনের ঘোষণা-
রাস্তার নাম নিয়ে কমিটি গঠনের ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করে, পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে নতুন করে নামকরণ মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি আমি ঘোষণা করলাম। আপনারাই বলেছেন মূল্যায়ন। পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ একটি কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। আপনাদের যার যা প্রস্তাব রয়েছে, সেখানে দেবেন। আমরা সেই রাস্তাতেই চলব।”
প্রসঙ্গত, ১৯৩২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে তৎকালীন বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে হত্যার উদ্দেশ্যে বীণা দাস গুলি চালিয়েছিলেন। গর্ভনর অল্পের জন্য বেঁচে যান। গ্রেফতার করা হয় বীণা দাসকে। ওই ঘটনার সময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন হাসান সোহরাওয়ার্দি। তাঁর ভাইপো হলেন হুসেন শাহীদ সোহরাওয়ার্দি। যিনি ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পরে পাকিস্তানে চলে যান। এবং তিনি পাকিস্তানের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হন। গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংয়ের খলনায়ক এই হুসেন শাহীদ সোহরাওয়ার্দি। এই গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গোপাল পাঁঠা। সেই গোপাল পাঁঠার নামেই সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম রাখা হয়েছে।
এদিন বিধানসভায় কী বলেছিলেন ঋতব্রত?
সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে এদিন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, “হুসেন সোহরাওয়ার্দিকে সমর্থনের কোনও প্রশ্ন উঠে না। কিন্তু, ইতিহাসের একনিষ্ঠ ছাত্র হিসেবে বলতে হয়, সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের রাস্তার নাম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসান সোহরাওয়ার্দির নামে হয়নি। রাস্তার নামকরণ হয়েছিল তাঁর বাবা মৌলানা উবেইদুল্লাহ আল উবেইদি সোহরাওয়ার্দির নামে। কলকাতা পৌরনিগমের তৎকালীন দাপুটে কাউন্সিলর শৈলেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় রাস্তার নামটি প্রস্তাব করেছিলেন।” একইসঙ্গে ঋতব্রত বলেন, গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নামে তো বউবাজারে রাস্তা হতে পারত।