Suvendu Adhikari: বিধানসভায় মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা শুভেন্দুর, ‘অর্ধেক সময়’ পাবে বিরোধীরা

West Bengal Assembly Budget Session: বিধায়কদের সমস্যার কথা মন্ত্রীদের শুনতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, "বিধানসভায় মন্ত্রীদের ঘর দেওয়া হয়েছে নেমপ্লেট লাগাতে শুধু নয়। সেখানে বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করতে হবে। বুধবার করে স্বরাষ্ট্র নিয়ে প্রশ্নোত্তর হবে। আমাকে প্রশ্ন করবেন, আমি উত্তর দেব।"

Suvendu Adhikari: বিধানসভায় মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা শুভেন্দুর, অর্ধেক সময় পাবে বিরোধীরা
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Jul 25, 2026 | 8:26 PM

কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। আর সেই অধিবেশনে একাধিক বিল পাশ হয়েছে। শনিবার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ভাষণে সেই সব বিষয় তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবারের অধিবেশন যাতে সাধারণ মানুষ দেখতে পারেন, সেজন্য লাইভের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেকথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই হাউস বিরোধীদের। অর্ধেক সময় আপনাদের দেওয়া হবে।”

ধন্যবাদ জ্ঞাপন ভাষণে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভিন্ন ভিন্ন বিরোধী দল নিয়ে বিরোধী সমষ্টি তৈরি হয়েছে। শাসক ও বিরোধী সব বিধায়ককে ধন্যবাদ জানাব। নতুন বিধায়ক অনেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এবারে বিধানসভার অধিবেশন লাইভ হয়েছে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা। বিধানসভাকে প্রাণবন্ত করতে চাই। সংখ্যা ফ্যাক্টর নয়। হাউস হল বিরোধীদের। অর্ধেক সময় আপনাদের দেওয়া হবে।”

বিরোধী দলনেতা ঠিক করা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে মামলা হয়েছে। কিন্তু আমার খারাপ লাগল, বিধায়কদের সই জাল হয়েছে। স্বাধীনতার পর এমন হয়নি। ১৩ বিধায়কের সই জাল। এই কাজ আমাদের শোভা পায় না।” বাংলায় বিধায়কদের কাজের সুযোগ বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি গ্রাউন্ডে কাজ করি। অন্য রাজ্যেও যোগ আছে। আমাদের রাজ্যে বিধায়কদের কাজের সুযোগ বেশি। এখানে পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় কাজের স্কোপ বেশি। বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল বাড়ানো হচ্ছে।” পূর্বতন সরকার তাঁকে কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে ডাকত না জানিয়ে বলেন, “আমি বিরোধী দলনেতা ছিলাম। ক্যাবিনেট ব়্যাঙ্ক। আমাকে কোনও অনুষ্ঠানে ডাকা হত না। আমার প্রস্তাব, বিধানসভার সব কমিটি দ্রুত গড়া উচিত। গড়ে ৮০-১০০ দিন অধিবেশন হওয়া উচিত।”

বিধায়কদের সমস্যার কথা মন্ত্রীদের শুনতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিধানসভায় মন্ত্রীদের ঘর দেওয়া হয়েছে নেমপ্লেট লাগাতে শুধু নয়। সেখানে বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করতে হবে। বুধবার করে স্বরাষ্ট্র নিয়ে প্রশ্নোত্তর হবে। আমাকে প্রশ্ন করবেন, আমি উত্তর দেব। পুলিশ নিয়ে প্রশ্ন হবে না, এমনটা হবে না।”

বিধানসভার অধিবেশনে মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকতে হবে বলেও এদিন বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “অধিবেশনে সাত মন্ত্রীকে থাকতেই হবে। না হলে মুলতুবি করে দেবেন। বিধানসভায় বিধায়কদের উপস্থিতি দিয়ে দিন ওয়েবসাইটে। এক্ষেত্রে নওশাদ (ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী) এগিয়ে। নওশাদ আপনার তো সরকার বদলের পরে বিধানসভা এলাকায় যেতে অসুবিধা হচ্ছে না।” নতুন বিধায়কদের বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি বিধায়ক হয়ে এসে লাইব্রেরি যেতাম। সবার বক্তব্য পড়তাম। আপনারা পড়াশোনা করুন।”

বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়লে নতুন বিধানসভা তৈরি হবে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নতুন বিধানসভা তৈরি করতে হবে। লোকসভার মতো। ডিলিমিটেশন বা মহিলা সংরক্ষণের পরে আসন বাড়বে। এটা হেরিটেজ বিল্ডিং। ৪০০ সদস্য হলে এখানে বসা যাবে না। অর্থমন্ত্রীকে সাক্ষী রেখে বলছি অর্থ অসুবিধা হবে না।” শেষে তিনি বলেন, “যাঁরা ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করেন তাঁদের বলব, ভদ্র আচরণ যাঁরা করেন তাঁদের উপর ক্যামেরার ফোকাস রাখবেন। অভদ্র আচরণ যাঁরা করেন, তাঁদের উপর নয়।”

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা বিরোধীদের-

এদিন ধন্যবাদ জ্ঞাপন ভাষণে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্বতন সরকারকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “একজনের বক্তৃতা দেখানোর পরে সব ব্ল্যাক আউট করে দেওয়া হবে। এটা ফ্যাসিবাদী মানসিকতা।” আবার বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বলেন, “আমি অনেক দিনের বিধায়ক। কিন্তু এর আগে কখনও দেখিনি, একজন মুখ্যমন্ত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিধানসভায় থেকে সমস্ত বিধায়কের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন। এটা আমাদের কাছে বড় পাওনা। আমরাও বলার সুযোগ পাচ্ছি।”

সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমানও প্রশংসার সুরে বলেন, “বিধায়ক হিসেবে এখানে কাজ করতে পেরে আমি ভীষণ খুশি। মন্ত্রীরা জবাব দেওয়ার জন্য সব সময় সচেষ্ট থাকেন। আগে যেভাবে বিধানসভার গণতন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছিল, অনেক সংশয় ছিল। কিন্তু এখানে এসে দেখেছি, একেবারে ভিন্ন পরিবেশ। কথা বলার অধিকার বাইরেও যাতে থাকে, সেটা সুনিশ্চিত করা হোক।”

Follow Us