
কলকাতা: পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ছিল। বিশেষত আরজি কর-কাণ্ডের পর বেরিয়ে আসে একের পর এক অভিযোগ। থ্রেট কালচার থেকে দুর্নীতি তো ছিলই, সেই সঙ্গে হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা, বেডের অভাব, দালালরাজ ছিল নিত্যদিনের অভিযোগ। সেই অবস্থা আমুল বদলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ, বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর পরিদর্শন করে একাধিক বিষয়ে নজর দেওয়ার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
১. কন্ট্রোল রুম তৈরির করার ভাবনার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজগুলোর উপর সরাসরি মনিটারিং করা, সেগুলি পরিষ্কার আছে কি না দেখা, এমার্জেন্সিতে রোগী পড়ে রয়েছেন কি না, আউটডোরের কী অবস্থা, সেগুলি মনিটরিং করার কথা ভাবা হয়েছে।
২. ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে সাব ডিভিশনাল পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রান্নাঘর, পার্কিং, নায্যমূল্যের ওষুধের দোকানগুলোতেও নজরদারি চলবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। হাসপাতালের পরিষেবা সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে রয়েছে কি না, সেটাও নজরে থাকবে।
৩. মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ৫৪ টাকা তিন বেলা খাবারের জন্য ধার্য ছিল, এই সরকার ১১০ টাকা করে দিয়েছে। খারাপ খাবার আর হবে না। ২০১৭ সালে শেষবারের জন্য খাবারের টাকা রিভাইজ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
৪. হাসপাতালকে দালালরাজ মুক্ত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু।
৫. স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, “নার্সদের দেখলাম, গ্লাভস, অ্যাপ্রন, সুন্দর ইউনিফর্মে রয়েছেন। আমি প্রধান সচিবকে বলেছি, ল্যামিনেশন করা ব্যাজ় করে দিতে।”
৬. ট্রমা কেয়ার ইউনিট করার কথা বলা হয়েছে। ২৫০ জনকে ১ মিনিটে পরিষেবা দিতে পারে, এমন একটা ট্রমা কেয়ার ইউনিটের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
৭. রোগীর পরিজনদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, হাসপাতালের পিছনে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে ইউনিটে ২৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। আপাতত লোহার বিমের ওপর শেড দিয়ে ফ্যান ঝুলিয়ে, শৌচালয়ের ব্যবস্থা করে থাকার ব্যবস্থা করা হবে।
৮. বার্ন ইউনিট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বার্ন ইউনিট একটু দুর্বল। আরও হাই স্কিল চিকিৎসকদের নিয়োগ করা হবে। ICU-তে ২০০ বেডের প্রয়োজন। তার জন্য চেষ্টা চলছে।”