
কলকাতা: মল্লিকবাড়ির দুর্গাপুজোয় হাজির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিলেন পুজো, খেলেন বাড়িতে তৈরি নাড়ুও। যাওয়ার আগে বলে গেলেন, কোয়েলের ডাকে নয়, বরং রঞ্জিত মল্লিকের আমন্ত্রণেই তিনি এবার মল্লিকবাড়ির দুর্গাপুজোয় এলেন।
কলকাতার অন্যতম নামকরা বনেদি বাড়ির পুজো মল্লিক বাড়ির পুজো। নবমীর নিশিতে সেখানেই ঢুঁ মারলেন মুখ্যমন্ত্রী। আরতি করে, প্রসাদও খেলেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বললেন, “রঞ্জিত মল্লিক মহোদয় আমায় ডেকেছিলেন মহানায়কের শতবর্ষে। বলেছিলেন, আমার বাড়িতে দুর্গাপুজো হয় আপনি জানেন তো? আমি বললাম, হ্যাঁ, টিভিতে দেখি। উনি বললেন, আপনি আসবেন। এর সঙ্গে কোয়েলের কোনও যোগ নেই। ওঁ এখন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ, কিন্তু আমায় রঞ্জিত মল্লিক ডেকেছেন। অত্যন্ত বিশিষ্ট মানুষ।”
মল্লিকবাড়ির পুজোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এলাম, নাড়ু খেলাম। বাড়িতে বানানো নাড়ু। পুরনো বাড়ি, ঐতিহ্য আছে। এতটুকু বদল হয়নি। একদম পুরো দেখে এলাম, দেড়শো বছরের বাড়ি, ১০২ বছরের প্রাচীন পুজো। এই ঐতিহ্যটা বাংলায় থাকুক। উনি চাইলেই ওই জায়গাটা প্রোমোটারকে দিতে পারতেন, যা হয়… কিন্তু উনি মেইনটেন করেছেন। এখনও কিছু লোকজন আছেন, যারা ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে সমঝোতা করেন না। রঞ্জিত মল্লিক তাদের মধ্যে একজন।”
এদিকে, কোয়েলও বলেন, “নাড়ু খেয়েছেন, খুব সুন্দরভাবে আরতি করেছেন। খুব ভালো লাগল। ওঁর কথার রেশ ধরেই বলি যে সত্যি আমাদের যে ঐতিহ্যটা আছে, পুরনো বাড়ির একটা ঐতিহ্য, সেটা বজায় রাখতে পেরেছি, মল্লিক বাড়ির প্রতিটি সদস্যকে সেই কৃতিত্বটা জানাচ্ছি। কারণ সেই পুরনো মানসিকতাটা এখনও আছে। একসঙ্গে কীভাবে থাকতে হয়। সেই জন্যই হয়তো ১০২ বছর ধরে আমরা এই পুজোটা করে আসতে পারছি। মহানায়কের শতবর্ষের অনুষ্ঠানে ওঁর (মুখ্যমন্ত্রীর) সঙ্গে কথা হয়েছিল। নবমীর দিন আসার কথা হয়েছিল। উনি নারকেল নাড়ু খেয়েছেন, যা আমার সবথেকে প্রিয়। ছোটবেলায় যে কত চুরি করে খেয়েছি।”